গত কয়েক দিনের অতিভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে রাঙ্গামাটির কাপ্তাই হ্রদের পানির পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়েছে। কাপ্তাই কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিট এবার একসাথে চালু করা হয়েছে— যা থেকে সর্বোচ্চ ২১২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে।

কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান বৃহস্পতিবার জানান, হ্রদের পানির উচ্চতা বাড়ার কারণে বুধবার (৯ জুলাই) রাতে পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের সবকটি ইউনিট একযোগে চালু করা হয়।

তিনি জানান, ‘১ ও ২ নম্বর ইউনিট থেকে প্রতিটি ৪৬ মেগাওয়াট করে ৯২ মেগাওয়াট এবং ৩, ৪ ও ৫ নম্বর ইউনিট থেকে প্রতিটি ৪০ মেগাওয়াট করে ১২০ মেগাওয়াট মিলে মোট ২১২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়েছে। এই বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে।’

জানা গেছে, কাপ্তাই হ্রদের পানির পরিমাণ কম থাকায় ২৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন এই কেন্দ্রের সব ইউনিট এতদিন একসাথে চালু করা সম্ভব ছিল না। চলতি বছরে এপ্রিলের পর থেকে বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে কাপ্তাই হ্রদে পানির পরিমাণ বাড়তে থাকায় গত ২ জুন থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের চারটি ইউনিট চালু করা করা হয়।

চলতি জুলাই মাসে গত কয়েকদিন ধরে ভারি বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে কাপ্তাই হ্রদে প্রতি ঘণ্টায় পানি বাড়তে থাকে। পানি বৃদ্ধির ফলে হ্রদের পানির উপর নির্ভরশীল কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদনও বেড়েছে। ফলে রাঙ্গামাটির বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিট একযোগে চালু করা সম্ভব হয়।

কাপ্তাই হ্রদের পানির সর্বোচ্চ ধারণ ক্ষমতা ১০৮ ফুট এমএসএল (মিনস সি লেভেল)। বুধবার রাত ৮টা পর্যন্ত কাপ্তাই হ্রদের পানির লেভেল ছিল ৯৬.৪১ ফুট এমএসএল। রুলকার্ভ অনুযায়ী এসময় হ্রদের পানির উচ্চতা থাকার কথা ৮৫.২৮ এমএসএল। কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা বেশি থাকায় সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপন্ন হচ্ছে।