জ্বালানি সঙ্কট থেকে বাঁচতে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষ এখন গোবর দিয়ে শলার লাকড়ি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তুলনামূলক কম খরচ হওয়ায় এর চাহিদা বাড়ছে শিবচরে। তারা মূলত জ্বালানি সঙ্কট দূর করতে গোবরের তৈরি শলার (মুঠিয়া) লাকড়ি তৈরি করে পরিবার জ্বালানি খরচ মিটিয়ে আসছে।

জানা গেছে, গোবরের কম্পোস্ট সার খুবই উৎকৃষ্ট হওয়ায় কৃষকরা জমিতে গোবর দিয়ে ভালো ফলন ফলিয়ে থাকেন। ফলে সব সময়ই কৃষকদের মাঝে গোবরের কদর ব্যাপকভাবে দেখা যায়। যাদের গরু আছে। কিন্তু আবাদি জমি নেই তারাও কৃষকদের কাছে গোবর বিক্রি করতেন। কিন্তু বর্তমানে তারা জ্বালানির বিকল্প হিসেবে গোবর ব্যবহার করছেন।

চরজানাজাত ইউনিয়নের বাসিন্দা ছোরোয়ার হোসেন জানান, দফায় দফায় গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়ায় মধ্যবিত্ত পরিবারের অনেকেই গ্যাসের সিলিন্ডার ব্যবহার বন্ধ করে দিয়েছেন। যার ফলে জ্বালানি কাঠের ওপর দিন দিন চাপ বেড়েই চলেছে। এর বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে গোবরের তৈরি মুইঠ্যা বা শলার লাকড়ি।

চরজানাজাত ইউনিয়নের বাসিন্দা সাদিয়া বেগম নামের এক গৃহিণী জানান, গোবরের শলার তৈরি লাকড়ি এমন এক প্রকার জ্বালানি, যা তৈরি করা খুবই সহজ ও খরচ কম। উপকরণ হিসেবে প্রয়োজন গরু বা মহিষের গোবর, পাটখড়ি, ধানের তুষ (কুড়া)। গোবরের শলার লাকড়ি তৈরির আগে পরিমাপ মতো পাটখড়ি কেটে গোবর ও তুষ (কুড়া) একত্রে মিশিয়ে পাটখড়ির সাথে এটে রোদে শুকাতে হয়।