নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের আয়োজিত মুজিব শতবর্ষ ও বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী সমাবেশ শেষ পর্যন্ত দলটির নির্বাচনী সভায় পরিণত হয়েছে।
শুক্রবার বিকেলে সমাবেশে অংশ নেয়া কেন্দ্রীয় নেতারা আগামী ১৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে নৌকার মেয়র প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভীকে বিজয়ী করার আহ্বান জানিয়েছেন।
শহরের দেওভোগের শেখ রাসেল পার্কে মুজিব শতবর্ষ ও বিজয়ের সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে এই সমাবেশের আয়োজন করা হলেও উপস্থিত বক্তাদের সকলের কণ্ঠেই ছিলো নির্বাচনী ইস্যু। এছাড়া সমাবেশে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা মিছিলগুলো থেকেও মেয়রপ্রার্থী আইভীর পক্ষে স্লোগান ওঠে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলেও সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন না নারায়ণগঞ্জ ৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, ‘আসছে সিটি করপোরেশন নির্বাচন উপলক্ষে আজকে আমাদের এ বিজয় সমাবেশ। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা থাকলেও আমাদের নেত্রী ও প্রতীকের প্রতি প্রতিহিংসা রাখা যাবে না।’
তিনি বলেন, ‘আজকের এই সমাবেশ দেশে আমি আশ্বস্ত হয়েছি যে গতবার আমাদের আইভী প্রায় ৮০ হাজার ভোটে জিতেছিল। আসছে ১৬ জানুয়ারী নির্বাচনে অন্তত লক্ষাধিক ভোটে আইভী জিতবেন। আমি সকলকে অনুরোধ করবো বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের হাতে পায়ে ধরে শেখ হাসিনা ও নৌকার সালাম পৌছে দিবেন। কোনো ষড়যন্ত্র টিকবে না।’
নানক বলেন, ‘বিজয় সমাবেশ থেকে আমরা আবারো আইভীকে বিজয়ী করার আহবান জানচ্ছি।’
নানক অভিযোগ করে বলেন, নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে বিএনপি লেভেল পাল্টিয়ে প্রার্থী দিয়েছে। এটা তাদের আরেকটি কৌশল।
তিনি আরো বলেন, ‘আওয়ামী লীগে একমাত্র শেখ হাসিনা ছাড়া কেউই অপরিহার্য্য নয়। দলের জন্য একমাত্র তিনিই অপরিহার্য্য।’
সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম এমপি, বি এম মোজাম্মেল হক, আহমদ হোসেন, মৃণাল কান্তি দাস এমপি, আবদুর রহমান, আড়াইহাজারে এমপি নজরুল ইসলাম বাবু, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই, সেক্রেটারী আবু হাসনাত শহীদ বাদল। মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন। প্রধান বক্তা ছিলেন সেলিনা হায়াৎ আইভী।
এদিকে নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের আয়োজিত বিজয় সমাবেশকে ইঙ্গিত করে নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করেছেন স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার।
তিনি বলেন, ‘আমি ইসির কথা মেনে চলেছি, নারায়ণগঞ্জের ইতিহাসে বৃহৎ বিজয় র্যালিতে অংশ নিইনি আচরণবিধির কারণে। অথচ সরকারি দলের প্রার্থী আইভী শুক্রবার বিজয় সমাবেশে বক্তব্য রেখেছেন।’
তৈমুর বলেন, ‘সেখানে সংসদ সদস্যসহ নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করতে পারার মতো একাধিক নেতা ছিলেন। আজই প্রমাণ হয়ে গেছে ইসি নির্বাচনকে কোন দিকে নিতে চাচ্ছেন।’
স্বতন্ত্র এই মেয়র প্রার্থী বলেন, আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীর সমাবেশে উপস্থিতি ও নৌকার পক্ষে ভোট চাওয়ার মতো ঘটনায় প্রমাণ হয় নির্বাচন কমিশন নখদন্তহীন, তারা স্বাধীন নয়।








