‘চিরঞ্জীব মুজিব’ নামের একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর অনুষ্ঠানের ফেস্টুন এবং দাওয়াত কার্ড নিয়ে রংপুর সিটি মেয়র মেয়রের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধুকে অবমাননার অভিযোগকে মিথ্যা, বানোয়াট এবং রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অংশ বলে দাবি করেছেন মেয়র এবং জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও মহানগর সভাপতি মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা।

রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য মহানগর আওয়ামী লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগের একটি ক্ষুদ্র অংশ ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের জন্য এই মিথ্যাচারের অপকর্মে লিপ্ত হয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।

এছাড়াও তাকে টেনে-হেঁচেড়ে বাড়ি ও অফিস থেকে বের করে আনার ঘোষণা ও গ্রেফতারের আল্টিমেটামের প্রতিবাদে শনিবার কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে জাতীয় পার্টি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রংপুর সিটি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করেন তিনি।

এসময় করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো: রুহুল আমীন মিঞা, সচিব উম্মে ফাতেমা, প্যানেল মেয়রসহ কাউন্সিলররা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মেয়র বলেন, সিটি পরিষদের পূর্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সড়কের মিড-আইল্যান্ডের স্ট্রিট লাইট পোস্টে (বৈদ্যুতিক খুঁটি) থেকে সকল ধরনের পোস্টার-ফেস্টুন অপসারণ করা হয়েছে এবং নতুন কোনো পোস্টার-ফেস্টুন না লাগানোর জন্য ১০ দিন যাবৎ মাইকযোগে প্রচারণা চালানো হয়। বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তীতে নগরীর সৌন্দর্য্য বর্ধনে সকল স্ট্রিট লাইট পোস্টে লাল-সবুজের মিশ্রণে এলইডি স্ট্রিপ লাইট স্থাপন করা হয়। কিন্তু গত ১৫ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে সিটি করপোরেশনের অনুমতি ছাড়াই আয়োজকরা ওইসব লাইট পোস্টে ‘চিরঞ্জীব মুজিব’ স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের প্রায় ১২০টি ফেস্টুন সাটিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে মেয়র আরো বলেন, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি বেলা আড়াইটার দিকে নগর ভবনে দুই থেকে তিনজন অপরিচিত ব্যক্তি তাকে আমন্ত্রণপত্র দিতে আসেন। তিনি তাদের আমন্ত্রণপত্র গ্রহণ করে টেবিলের ওপর রেখে দেন এবং চলচ্চিলটির আয়োজকদের নিজ দায়িত্বে স্ট্রিট লাইট পোস্টে সাটানো ফেস্টুনসমূহ অপসারণ করতে অনুরোধ করেন। ওই সময় মেয়রের দফতরে ছয় থেকে সাতজন কাউন্সিলরসহ আগত প্রায় শতাধিক সেবা প্রত্যাশীরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে মেয়র আরো বলেন, আমন্ত্রণপত্র ছুড়ে ফেলাসহ যে অভিযোগ তুলে মিথ্যাচার করা হচ্ছে, তা দুঃখজনক। রংপুর মহানগর আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের গুটি কয়েক সদস্য ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের অপরাজনীতির খেলা শুরু করেছেন। যখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ সহায়তায় রংপুর সিটি করপোরেশনের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে, সেই মুহূর্তে কিছু বিচ্ছিন্ন নেতা এই ঘটনাকে পুঁজি করে অপকৌশলে নোংরা রাজনীতি শুরু করছেন।

এসময় তিনি বলেন, বর্তমান সিটি পরিষদ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনসহ বিভিন্ন জাতীয় দিবস ও অনুষ্ঠানের প্রচারণা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে করে আসছে। এবারই প্রথম সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে জাতির জনকের জন্ম শতবার্ষিকী উপলক্ষে ‘রংপুরে বঙ্গবন্ধু’ শীর্ষক ঐতিহাসিক সুভ্যেনিয়র তৈরি করা হচ্ছে, যার মোড়ক আগামী ১৭ মার্চ জাতির জনকের জন্মবার্ষিকীতে উন্মোচন করা হবে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মেয়র বলেন, পুরো বিষয়টি আমি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে তদন্ত করার দাবি জানাচ্ছি। তদন্তে যদি আমি দোষি হই তাহলে আমার বিচার করা হোক। আর যদি তদন্তে প্রমাণিত হয় নোংরা রাজনীতির ষড়যন্ত্র হিসেবে কতিপয় চিহ্নিত ব্যক্তি এসব করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।

এছাড়াও তিনি বলেন, সিটি পরিষদ এবং দলীয় ফোরামে আলোচনা করে এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন তিনি।

অন্যদিকে এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয় পার্টি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন। মহানগর সাধারণ সম্পাদক এসএম ইয়াসির ও জেলা সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক এ বিষয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছেন, আওয়ামী লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগের একটি ক্ষুদ্র অংশ আওয়ামী লীগ কার্যালয়কে ব্যবহার করে নোংরা রাজনীতির অংশ হিসেবে সিটি মেয়র ও জাতীয় পার্টির নেতা মোস্তফার বিরুদ্ধে যে ঔদ্ধত্যপূর্ণ মিথ্যাচার করেছে আমরা তার প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, বিষয়টি আমরা কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে জানিয়েছি। তারা সরকার এবং আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় পর্যায়ে এ নিয়ে আলোচনা করবেন। মেয়রকে বাড়ি থেকে টেনে-হেঁচড়ে বের করে আনার যে ঘোষণা ছাত্রলীগ দিয়েছে, সেই চ্যালেঞ্জ আমরা গ্রহণ করেছি। মাঠেই এই জবাব দিতে চাই আমরা। শনিবার রংপুরের আপামার জনসাধারণকে নিয়ে এর প্রতিবাদে মাঠে নামবে জাতীয় পার্টি।

অন্যদিকে রংপুর সিটি করপোরেশন কর্মচারী ইউনিয়নের পক্ষ থেকে সভাপতি আব্দুর রহিম বাবলু ও সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবীর শান্ত এক বিবৃতিতে বলেন, ‘হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করছি। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি/২০২২ইং তারিখ আনুমানিক বিকেল ২.৩০ ঘটিকায় সিটি করপোরেশনের মেয়রের দফতরে অপরিচিত ২/৩ জন ব্যক্তি আসেন ও আমন্ত্রণপত্র দেন। এ বিষয় নিয়ে কিছু সংখ্যক নামধারী নেতা ঘোলাপানিতে মাছ শিকারের উদ্দেশ্যে বর্ণিত ঘটনাকে বিকৃত করে জাতির জনককে অবমাননা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে এবং মেয়রের বিরুদ্ধে ঘৃণ্য চক্রান্ত শুরু করা হয়েছে। আমরা এই ঘৃণ্য চক্রান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এরকম একজন নিষ্ঠাবান, সৎ ও যোগ্য মেয়র মহোদয়ের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও চক্রান্তকারীর বিরুদ্ধে রংপুর সিটি করপোরেশনের কর্মচারীবৃন্দ একাত্মতা ঘোষণা করছি।’