অনলাইনে জুয়া খেলে লাখ লাখ নষ্ট করেছেন স্বামী। তাই স্ত্রী জুয়া খেলার প্রতিবাদ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে স্বামী রমজান আলী প্রকাশ্যে স্ত্রীকে নির্যাতন করেন। এসময় বাবার হাত থেকে মাকে বাঁচানোর চেষ্টা করে তাদের শিশুপুত্র।

শুক্রবার রাতে চুয়াডাঙ্গা শহরের কবরী রোডে অবস্থিত বিসমিল্লাহ ফুসকা হাউজ নামের একটি দোকানে এ ঘটনা ঘটে।

স্ত্রী রহিমা বেগম অভিযোগ করেন, ১৫ বছর ধরে তারা সংসার করছেন। সংসার জীবনে তাদের দুটি সন্তান আছে। এর মধ্যে বড় ছেলে চুয়াডাঙ্গা ভি জে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে সপ্তম শ্রেণিতে লেখাপড়া করছে। ছোট ছেলেকে করোনার কারণে এখনো স্কুলে ভর্তি করানো হয়নি। স্বামীর জুয়া খেলার নেশায় সংসারটা এখন টালমাটাল অবস্থায় পরিণত হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, তার স্বামী চুয়াডাঙ্গা কবরী রোডে ফুসকা হাউজের ব্যবসা করেন। দিন শেষে তার আয়-রোজগার মোটামুটি ভালোই হয়। কিন্তু বাড়ি গেলে তার টাকা থাকে না। বিভিন্ন অজুহাতে টাকা খরচ হয়ে গেছে বলে জানান তিনি। এই সমস্যা এখন তার অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। তার এই জুয়া খেলার কারণে সংসারের খরচসহ ছেলেদের পড়া-লেখার খরচ নিয়ে প্রতিদিনই তার সাথে বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে গায়ে হাত তুলতেও দ্বিধা করেন না। আজও সংসার খরচের টাকা চাইলে দু-এক কথায় দোকানের মধ্যেই তাকে মারধর করেন তার স্বামী। এসময় তার স্ত্রীকে মারধরসহ খুন করে জেলে যাওয়ারও হুমকি দেখান স্বামী রমজান আলী।

স্ত্রী রহিমা বেগম আরো বলেন, বিয়ের পর তারা ফরিদপুরে থাকতেন। সেখানে রাতে তার স্বামী বাড়ি থাকতেন না। সারারাত বাইরে বাইরে তাস দিয়ে জুয়া খেলতেন। এ ঘটনার একের পর এক প্রতিবাদ করায় তাস দিয়ে জুয়া খেলাটা তার বন্ধ হয়েছে। বর্তমানে মোবাইলে অনলাইনে বিভিন্ন ওয়েবসাইটের মাধ্যমে জুয়া খেলে লাখ লাখ টাকা খুইয়েছেন তিনি। এতে সংসার জীবন নিয়ে অনেক বিপাকে পড়ছেন তিনি।

এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন বলেন, সমাজের প্রত্যেকের এ ব্যাপার সচেতন হতে হব। কোথায় কোথায় এ ধরণের জুয়ার আসর বসে, সে বিষয়ে পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার অনুরোধ জানান।

তিনি বলেন, অনলাইন জুয়ার বিষয়েও তারা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন।