আমাবস্যার প্রভাবে জোয়ারের পানি অস্বাভাবিক বেড়ে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার ১৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বৃহস্পতি ও শুক্রবার পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টার জোয়ারে এইসব গ্রামের ভাঙা বেড়িবাঁধ দিয়ে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ে। এর ফলে পানিবন্দি হয়ে বিপাকে পড়েছে এসব গ্রামের হাজার হাজার মানুষ।
আমাবস্যার কারণে দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনের মতো বঙ্গোপসাগরসহ বিভিন্ন নদ-নদীর পানি স্বাভাবিকের চেয়ে ৪-৫ ফুট বৃদ্ধি পায়। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার অতিরিক্ত জোয়ারের পানি প্রবাহিত হয়।
স্থানীয়রা জানায়, আম্ফানসহ বিভিন্ন দুর্যোগে ভেঙে থাকা সংস্কারবিহীন বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ দিয়ে পানি ঢুকে উপজেলার চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নের চালিতাবুনিয়া বাজার, বিবির হাওলা, গোলবুনিয়া, চরলতা, মধ্য চালিতাবুনিয়া ও মরাজাঙ্গী গ্রাম প্লাবিত হয়।
একইসাথে ভাঙা বেড়িবাঁধ দিয়ে চরমোন্তাজ ইউনিয়নের চরআন্ডা, নয়ার চর, উত্তর চরমোন্তাজ, হিন্দুগ্রাম ও ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামের লোকালয়ে পানি ঢুকে যায়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এছাড়াও উপজেলার গঙ্গিপাড়া, চরযমুনা, মোল্লার চর ও চরগঙ্গা, কোড়ালিয়াসহ বেড়িবাঁধের বাইরের নিম্নাঞ্চলগুলোও প্লাবিত হয়। এইসব এলাকার মৎস্য ঘের ও পুকুর পানিতে তলিয়ে লাখ লাখ টাকার মাছ ভেসে গেছে। পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টার জোয়ারে পানিবন্দি অন্তত চার হাজার মানুষ পড়েছে সীমাহীন দুর্ভোগে।
জোয়ারের পানিতে আটকেপড়া শহিদুল হাওলাদার বলেন, অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে তাদের একদিকে সীমাহীন দুর্ভোগ, অন্যদিকে প্রতিনিয়ত জানমালের ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। তাই এখানে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ অত্যন্ত জরুরী।
চালিতাবুনিয়া ইউপি চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম বলেন, পূর্বের বন্যাগুলোর চেয়ে এই জোয়ারে পানি বেশি উঠেছে। আমাদের পুরো ইউনিয়ন তলিয়ে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে এই ইউনিয়নের ভাঙা বেড়িবাঁধগুলো সংস্কার না করায় স্বাভাবিকের চেয়ে একটু পানি বাড়লেই সব তলিয়ে যায়। তাই এই এলাকার মানুষের কথা বিবেচনা করে ভাঙা বেড়িবাঁধগুলো সংস্কারের জন্য সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: মাশফাকুর রহমান জানান, ভাঙা বেড়িবাঁধ সংস্কার প্রয়োজন। এজন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবহিত করা হয়েছে।





