লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে গরমের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বিদ্যুতের লোডশেডিং। অথচ ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের ভেতরেও বাড়তি বিদ্যুৎ বিল পরিশোধে বাধ্য হচ্ছেন উপজেলার লক্ষাধিক গ্রাহক। গ্রাহকদের দাবি জোনাল অফিস ভৌতিক বা অনুমাননির্ভর বিল তৈরি করে প্রতি মাসে গ্রাহকদের হয়রানি করছে। দূর-দূরান্তের গ্রাহকদের রামগঞ্জ উপজেলা শহরের অফিসে এসে বিল ঠিক করতে হচ্ছে।
গত মে মাস থেকে লোডশেডিং চরম আকার ধারণ করেছে। ১ ঘন্টা বিদ্যুৎ দিলে ২-৩ ঘণ্টা চলে লোডশেডিং। গ্রামের বিদ্যুতের লোডশেডিং আরো ভয়াবহ।
রামগঞ্জ শহরের কনফেকশনারি ব্যবসায়ী সজিব জানান, মার্চ মাসের বিল ছিল ২৭০০ টাকা, এপ্রিল মাসে ২৭৩৬ টাকা কিন্তু মে মাসের বিল এসেছে ৫৯৯২ টাকা। বিদ্যুৎ অফিসে বসে বাড়িঘরের মিটার ঠিকমতো রিডিং না করেই অনুমাননির্ভর অস্বাভাবিক অঙ্কের বিল তৈরি করে গ্রাহকদের হয়রানি করা হচ্ছে।
বাজারের মোবাইল ফোন ব্যবসায়ী হানিফ মোল্লাও জানালেন একই কথা। তিনি জানান, ফেব্রুয়ারি মাসে বিদ্যুৎ বিল ছিল ৩৪০৭ টাকা, মার্চ মাসে ৩৭৩৮ টাকা, এপ্রিলে ৪০৫১ টাকা আর মে মাসে এক লাফে ৬৮৭০ টাকা। সিরাজুল হক, মায়া বেগম, মিনু বেগম, জাকির হোসেন, মাহমুদ ফারুক, মোবারকসহ অর্ধশতাধিক গ্রাহকের সাথে আলাপকালে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, গত দুই মাস ধরে অস্বাভাবিক অঙ্কের বিদ্যুৎ বিল দিচ্ছে পল্লী বিদ্যুৎ। এমনিতেই মানুষ দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে দিশেহারা, তার ওপর বিদ্যুতের অস্বাভাবিক বিল। এ যেন মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা। সংযোগ বিচ্ছিন্নের ভয়ে বাধ্য হয়ে তারা ঘরের মূল্যবান আসবাবপত্র বিক্রি করে বিল পরিশোধ করেছেন।
পল্লী বিদ্যুতের রামগঞ্জ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) নুরুল আলম ভূঁইয়া বলেন, আমরা বিদ্যুৎ যতটুকু পাচ্ছি তা সরবরাহ করছি। এরপরও লোডশেডিং করতে হচ্ছে। মে মাসের বিলটি ছিল গত রমজানের। রোজার সময় সরকার লোডশেডিং না দেয়ায় বিল বেশি এসেছে। সামনের মাস থেকে অতিরিক্ত বিল আসবে না। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, রামগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন অফিস ও ব্যক্তির কাছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পাওনা প্রায় ৮ কোটি টাকা। ব্যাপক প্রচার প্রচারণা করেও টাকা উত্তোলন করা সম্ভব হচ্ছে না।