রংপুরের মিঠাপুকুরে ছুটিতে এসে এক পুলিশ সদস্য ধারালো অস্ত্র দিয়ে যুবকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা না নেয়ায় সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে।

শনিবার (১৫ জুলাই) দুপুরে মিঠাপুকুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সন্মেলনটি করেন নয়ন মিয়া। এ-সময় তার সাথে ছিলেন তার বড় ভাই ভিকটিম রুবেল সাদী ও চাচা আব্দুল হামিদ মিয়া।

সংবাদ সম্মেলন থেকে জানা যায়, ৬ জুলাই রাত সাড়ে ৮টার দিকে বৈরাতী হাটের নয় মিয়ার সিমেন্ট-টিনের দোকানের সামনে এ হামলা হয়। এ সময় পূর্বশত্ত্রুতার জের ধের রফিকুল ইসলাম ওরফে পচার হুকুমে ছুটিতে আসা পুলিশ সদস্য নাহিদ হাসান ও রাকিবুল হাসান ইমন পিছন থেকে লাঠি ও ধারালো দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। এ ঘটনায় আহত অবস্থায় ওই যুবক মিঠাপুকুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে ৯ জুলাই নয়ন মিয়া একটি থানায় অভিযোগ করেন। এ ঘটনার ১০দিন অতিবাহিত হলেও মিঠাপুকুর থানা পুলিশ মামলা না নেয়ায় নয়ন মিয়া শনিবার দুপুরে মিঠাপুকুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সন্মেলন করেন।

নয়ন মিয়া তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, পূর্ব শত্রুতার জেরে উপজেলার বৈরাতিহাট এলাকায় রুবেল সাদী নামে এক যুবকের ওপর হামলা চালায় পুলিশ সদস্য নাহিদ হাসান ও তার ভাই রাকিবুল হাসান ইমন। এ সময় তারা রুবেল সাদীর ওপর বেধরক মারপিট ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মিঠাপুকুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায়।

মিঠাপুকুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন হামলার শিকার রুবেল সাদী বলেন, আমি মোটরসাইকেলে থাকা অবস্থায় পুলিশ সদস্য নাহিদ হাসান ও ইমন আমার ওপর হামলা চালায়। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই অতর্কিত হামলার ফলে আমি গুরুতর আহত হই। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও ১০ দিন অতিবাহিত হয়েছে। তবু পুলিশ মামলা নিচ্ছে না বলে সংবাদ সন্মেলনে মামলাকারী অভিযোগ করেন।

এ বিষয়ে মিঠাপুকুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোস্তাফিজার রহমান জানান, অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য নাহিদ হাসান ঘটনাটি থামিয়ে দিয়েছে। সে কোনো মার পিট করেনি। আমাদের প্রথমিক তদন্তে বিষয়টি উঠে এসেছে। তাকে ২ নম্বর আসামি অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে তাই মামলা হয়নি। পুলিশ সদস্যকে বাদ দিয়ে এজাহার দাখিল করলে মামলা করা হবে বলে ওসি জানান।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল ডি) আবু হাসান মিয়া ও একইকথা বলেন।