লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে জ¦রে আক্রান্ত রোগীরা গাদাগাদি করে চিকিৎসা নিতে ও পরীক্ষা করাতে ভিড় করছেন রামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। ৫০ শয্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পুরাতন ভবনে সংস্কারকাজ চলমান থাকায় প্রতিদিন শত শত রোগী ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকাসহ নানা কারণে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
সরেজমিন বুধবার দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, ল্যাবরটরি বা পরীক্ষাগারের সামনে পুরুষ মহিলা রোগী বা তাদের স্বজনরা সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে থাকলেও বসার কোনো ব্যবস্থা নেই, নেই কোনো বৈদ্যুতিক পাখা ও আলোর ব্যবস্থা। গরমে ঘামে-চিৎকার চেঁচামেচি আর ডেঙ্গু আতঙ্কে রোগী ও স্বজনদের ত্রাহী ত্রাহী অবস্থা। এমন অবস্থায় পরীক্ষা শুরুর পরপরই ডেঙ্গু পরীক্ষার মেশিনটিও বন্ধ হয়ে গেছে দুই দুইবার। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, এভাবে কাজ করা সম্ভব নয়। পুরো হাসপাতালে রোগীদের চাপে আমাদের কাজের গতিও ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতালে কর্মরত লোকজনের।
পৌর আউগানখীল গ্রামের একজন স্কুল শিক্ষিকা বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে আমি, আমার স্বামী ও বড় মেয়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত। সরকারি হাসপাতালে বেড নাই। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, পুরাতন ভবনে সংস্কারকাজ চলছে। আপাতত বাড়িতে চিকিৎসা নিন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিসংখ্যান কর্মকর্তা গিয়াস উদ্দিন মানিক জানান, প্রতিদিনই বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। আজ ভর্তি হয়েছেন ৬ জন। নতুন করে শনাক্ত হচ্ছে ডেঙ্গু রোগী। বেশির ভাগ রোগীই বাড়ি বা অন্যত্রে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
রামগঞ্জ পৌর মেয়র আবুল খায়ের পাটোয়ারী বলেন, আমরা মশা নিধনে পর্যাপ্ত ওষুধ ছিটিয়েছি। এ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার গুনময় পোদ্দার জানান, স্বাভাবিক জ¦রে আক্রান্ত রোগীরা ডেঙ্গু আতঙ্কে হাসপাতালে চলে আসছে। হাসপাতালে সংস্কারকাজ চলমান থাকায় কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি সেবা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার।