মাত্র ২৭ টাকা পাওনা আদায় নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে মামাত ভাইকে হত্যা মামলার রায়ে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার বাবা-ছেলেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্তরা হলেন উপজেলার তাড়ল ইউনিয়নের বুরহানপুর গ্রামের মহিব উল্লা ও তার ছেলে আবুল কালাম।
বৃহস্পতিবার (১০ আগস্ট) সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা জজ মহিউদ্দিন মুরাদ এই রায় দেন।

রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) সুহেল আহমেদ ছইল মিয়া।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ৪ জুন দিরাইয়ের কলাবাজার এলাকায় মহিব উল্লার ছেলে আবুল কালাম তার আপন মামাত ভাই পৌরসদরের চন্ডিপুর গ্রামের আলমগীর মিয়াকে (৩২) মারধর করে। আবুল কালাম আলমগীরের কাছে ২৭ টাকা পাওনা ছিলেন। এর জেরে মুহিব উল্লা ও তার ছেলেদের সাথে দ্বিতীয় দফা কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে আলমগীরকে ছুরিকাঘাত করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয় লোকজন পরে তাকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে তিনি মারা যান। এরপর আলমগীরের বাবা আব্দুর রাজ্জাক দিরাই থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে মামলায় মোট ছয় আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ।

মামলায় দীর্ঘ বিচারকার্য শেষে বৃহস্পতিবার দুপুরে সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা জজ মহিউদ্দিন মুরাদ বাবা-ছেলেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশের এই রায় দেন। মামলার রফিকুল নামে এক আসামিকে তিন মাসের কারাদণ্ড ও অপর তিন আসামিকে বেকসুর খালাস দিয়ে আদালত রায় ঘোষণা করেন।