প্রতিবছরেই ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনের শিকার হচ্ছে কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলার সোনাভরি, হলহলিয়া জিঞ্জিরাম এলাকা। মানুষ হারাচ্ছে সহায়-সম্বল। অন্যের বাড়ি, অন্যের জায়গায় অস্থায়ী ছাউনি তুলে অথবা গুচ্ছগ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে কষ্টে বসবাস করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

হঠাৎ করে ভাদ্রের শেষের দিকে উজান থেকে নেমে আসা ভারতীয় লাল পানি রৌমারী উপজেলার সাহেবের আলগা থেকে ফলুয়ারচর নৌকা ঘাটের পূর্বদিকে সোনাভরি নদীতে প্রবেশ করে উপজেলার রৌমারী সদর ইউনিয়নের উত্তর চাক্তাবাড়ি গ্রামে দু’দিন প্রায় ২০টি পরিবার নদী ভাঙ্গনের কবলে বিলিন হয়ে গেছে। এখন পানি কমছে কিন্তু স্রোতের তীব্রতা বেড়ে নদী ভাঙ্গনে আতঙ্ক বাড়ছে। ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলিন হচ্ছে, পাল্টে যাচ্ছে ওই গ্রামের চিত্র। নিঃস্ব হচ্ছে ওই গ্রামের মানুষগুলো।

ভাঙ্গনকবলিত ভুক্তভোগী মানুষদের অভিযোগ, ভাঙ্গন রোধে সরকার ফলুয়ারচর ঘাট সংলগ্ন ব্রহ্মপুত্র ও চাক্তাবাড়ি, যাদুরচর সোনাভরি মুখে বাঁধ দেয়ার জন্য গত দুই বছর আগে বরাদ্দ দিয়েছিল। বরাদ্দমতে সেখানে বাঁধ নির্মাণ কাজ শুরুও করেছিল। কিন্তু হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায় নির্মাণ কাজ। বাঁধটি না থাকায় এ এলাকায় পানি প্রবেশ করে নদী ভাঙ্গনসহ ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোনো কার্যকরি পদক্ষেপ না থাকায় কাজটি হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেছে বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ।

উত্তর চাক্তাবাড়ি গ্রামে এক মানববন্ধনে নদীগর্ভে সহায়-সম্বল বিলীন হওয়া বিশাল আলী, সোনা মিয়া, জোসন আলী, তাহের আলী, আজাহার আলী ও সাইফুল ইসলামসহ অনেকেই জানান, ভাদ্র মাসের শেষের দিকে হঠাৎ করে ভারত থেকে নেমে আসা পানিতে চরের মধ্যে রোপা আমন ধানসহ বিভিন্ন ফসল তলিয়ে গেছে। এদিকে ভাঙ্গনে ঘরবাড়ি সরাতেও সময় পাচ্ছি না। রাতারাতি ঘরবাড়ি ভেঙ্গে নিয়ে যাচ্ছে পানির তীব্র স্রোতে। ফলুয়ারচর ঘাট সংলগ্ন ব্রহ্মপুত্র নদের মুখে সরকারের বরাদ্দ এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী বাঁধটি নির্মাণ কাজ শেষ হলে নদীভাঙ্গনের শিকার হতে হতো না পরিবারগুলোকে। আমাদের দাবি, ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে বাসস্থানের ব্যবস্থা করে দ্রুত নদীভাঙ্গন রোধ করা।

সদর চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক জানান, বাড়িগুলো ভাঙ্গনের কবলে পড়ার পরই এলাকায় গিয়েছিলাম এবং ভুক্তভোগীদের মাঝে চাল, ডাল ও কিছু শুকনা খাবার দিয়ে এসেছি। বাড়িগুলো নদীতে ভেঙ্গে যাওয়ার বিষয়ে ইউএনওকে ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ করেছি।