বিএনপির চলমান সরকারবিরোধী কর্মসূচিতে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তাই সরকারবিরোধী একদফা আন্দোলনকে আরো গতিশীল করার জন্য সরকার পতনের চূড়ান্ত কর্মসূচি ঘোষণার আগেই ছাত্রদলকে আরো শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কাজ করছে বিএনপি। সেই ধারাবাহিকতায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও পূর্বের পর দীর্ঘ দিন যাবৎ না হওয়া ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের বিভিন্ন থানা ও কলেজ কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে। ছাত্রদলের শীর্ষ নেতারা মনে করেন দীর্ঘ ১৪ বছর ঢাকা মহানগর উত্তরের এসব থানায় কমিটি না থাকায় কমিটির নেতাদের ছাত্রজীবন শেষ হয়ে গিয়েছিল। তাই সংগঠনকে শক্তিশালী করতে ছাত্রদলের সাংগঠনিক অভিভাবক তারেক রহমানের নির্দেশে এসব কমিটি ঘোষণা করা হয়। রাজপথে সক্রিয় নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে বলেও জানান তারা।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার রাতে দীর্ঘ ১৪ বছর পর ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের বিভিন্ন থানা কমিটির অনুমোদন দেন ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সভাপতি মেহেদী হাসান ও সাধারণ সম্পাদক রাসেল বাবু।

এসব কমিটির মধ্যে ১৪ থানা ও একটি কলেজ কমিটি রয়েছে। এর পর থেকেই নেতাকর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস, কর্মসূচিতে ব্যাপক শোডাউন করতে দেখা যায়।
থানা কমিটির মধ্যে বাড্ডা থানায় সভাপতি আশরাফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক দ্বীন ইসলাম; শেরেবাংলা নগর থানায় সভাপতি মহসিন শেখ, সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন আহমেদ দীপু; গুলশান থানায় সভাপতি কে এম নাঈম, সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন; তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় সভাপতি আবু বকর সিদ্দিকী সুমন, সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান মানিক; বিমানবন্দর থানায় সভাপতি রিপন হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আল আমিন হোসেন শান্ত; দক্ষিণখান থানায় সভাপতি সাইফুল ইসলাম সাইফ, সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বিপ্লব; উত্তরখান থানায় সভাপতি আবির সরকার সৌরভ, সাধারণ সম্পাদক হৃদয় আহমেদ; ভাটারা থানায় সভাপতি রিয়াজ চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল হোসেন রনি; উত্তরা পশ্চিম থানায় সভাপতি সামসুল আলম সোহেল, সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রুবেল; তেজগাঁও থানায় সভাপতি আক্তার হোসেন ফরাজী, সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান রাজন; খিলক্ষেত থানায় সভাপতি তানিম হোসেন রাব্বী, সাধারণ সম্পাদক দুর্লভ দেওয়ান; উত্তরা পূর্ব থানায় সভাপতি সাজ্জাদ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ বাবু; তুরাগ থানায় সভাপতি গোলাম রহমান সজল, সাধারণ সম্পাদক নুরুল হুদা জাকির; বনানী থানায় সভাপতি নাঈম উদ্দিন মিজবাহ, সাধারণ সম্পাদক সাহারুল ইসলাম জিহানকে রাখা হয়েছে। এসব কমিটিকে আগামী ১০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

নেতাকর্মীরা জানান, দীর্ঘ দিনের প্রতীক্ষিত থানা কমিটি গঠনের পরপরই তৃণমূলে উচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হয়, যার প্রতিফলন ঘটে শনিবার রাজধানীর গণমিছিল ও সমাবেশে।
এ দিন প্রত্যেক থানা কমিটির ব্যানারে নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে কর্মসূচিতে অংশ নেন। সমাবেশ শেষে দলীয় কার্যালয়ে মহানগর উত্তর ছাত্রদলের কার্যালয়ে সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তারা।
এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রাসেল বাবু বলেন, দেশনায়ক তারেক রহমানের নির্দেশনায় ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীর দীর্ঘ দিনের প্রত্যাশিত কমিটিগুলো গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি গঠনের মাধ্যমে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা আগের চাইতে অনেক বেশি উচ্ছ্বসিত। এই উচ্ছ্বাস চলমান আন্দোলনকে বেগবান করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমি মনে করি।

এ দিকে শ্রাবণ-জুয়েলের নেতৃত্বে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন হওয়ার পর সংগঠনটির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিবকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও পূর্ব ছাত্রদলের ইউনিট কমিটিগুলো পুনর্গঠনের দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। দায়িত্ব পাওয়ার কয়েক মাসের মধ্যে দুই মহানগরের সব (২৪টি থানা ও ১২ কলেজ) কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছিল। শিগগিরই এই দুই মহানগরের কমিটিও পুনর্গঠন করা হবে বলে জানা যায়। ফলে এখন শুধু ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের ইউনিট কমিটিগুলো পুনর্গঠনের কাজ বাকি আছে। জানা যায়, সংগঠনটির সাংগঠনিক সম্পাদক আবু আফসান মোহাম্মদ ইয়াহিয়া মহানগরটির সমন্বয়ের দায়িত্বে আছেন। তিনি মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সমন্বয়কের দায়িত্বেও তিনি। ইয়াহিয়া কারাগারে থাকায় কমিটি পুনর্গঠনে কিছুটা বিলম্ব হলেও শিগগিরই মহানগর পশ্চিমের কমিটিগুলো পুনর্গঠন করা হবে বলে জানা যায়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রাশেদ ইকবাল খান নয়া দিগন্তকে বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও ছাত্রদলের সাংগঠনিক অভিভাবক দেশনায়ক তারেক রহমানের দূরদর্শী দিকনির্দেশনায় ছাত্রদল একই সাথে রাজপথে আন্দোলন সংগ্রাম ও সাংগঠনিক কাজ পরিচালনা করে আসছে। সেই ধারাবাহিকতায় আমাদের প্রিয় অভিভাবকের নির্দেশনায় ইতোমধ্যে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ, পূর্ব ও উত্তরের বিভিন্ন ইউনিটগুলোর কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে। মহানগর পশ্চিমের ইউনিটগুলো পুনর্গঠনের কাজ চলমান। শিগগিরই হয়তো সেগুলো করতে পারব। দেশনায়ক তারেক রহমানের নির্দেশনায় ছাত্রদলের জন্য যখন যেটা ভালো হবে সেটিই করা হবে।