লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে অটোরিকশা ছিনতাই করতে গিয়ে এর চালককে হত্যার ঘটনায় তিন অভিযুক্তকে আটক করেছে পুলিশ।
নিহত অটোরিকশাচালক মো: রিপন হোসেন (৪৫) পৌর কাজীরখীল গ্রামের মনির উদ্দিন ব্যাপারী বাড়ির আবদুল কাদেরের ছেলে।
বৃহস্পতিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত গভীর রাতে তিনি আক্রমণের শিকার হন এবং সোমবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ভোরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন- রামগঞ্জ উপজেলার দরবেশপুর ইউনিয়নের দেওয়ান বাড়ির মোক্তার হোসেনের ছেলে আলভী দেওয়ান হৃদয় (২৪), চাটখিল উপজেলার সুন্দরপুর বড় বাড়ির মরহুম বাবুল মিয়ার ছেলে মো: সুজন (২৫) ও নোয়াখালী জেলার চরজব্বর ইউনিয়নের পশ্চিম চরজব্বর গ্রামের আলী আজগরের ছেলে বেলাল হোসেন।
সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত পৌনে ৪টার দিকে রামগঞ্জ বাস টার্মিনাল থেকে অজ্ঞাত এক যাত্রী পৌর জগৎপুর গ্রামে যাওয়ার উদ্দেশে রিপনের অটোরিকশাটি ভাড়া করেন। পরে রাত ৪টার দিকে ওই যাত্রীকে নিয়ে আঙ্গারপাড়াস্থ রজব আলী মেম্বার বাড়ি এলাকায় গেলে আরো দু’জন গাড়িতে ওঠেন। কিছুক্ষণ পরেই রিপন কিছু বুঝে ওঠার আগেই অজ্ঞাতযাত্রীরা তার চোখে মরিচের গুঁড়া মেখে দিয়ে অটোরিকশাটি ছিনতাইয়ের চেষ্টা করেন। এ সময় বিভিন্নভাবে তাদের হাত থেকে অটোরিকশাটি রক্ষা করার চেষ্টা করেন রিপন। এ সময় তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে রিপনের বুকে ও পেটে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করেন এবং সাথে থাকা দুই হাজার টাকা নিয়ে পালিয়ে যান।
কিছুক্ষণ পর একই রাস্তা দিয়ে অন্য একটি অটোরিকশাচালক যাওয়ার সময় রাস্তার পাশে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় গোংরাতে দেখেন। এ সময় তার মোবাইল নম্বর থেকে তার ভাই তপন হোসেনকে ফোন করেন। পরে তিনি এসে তাকে (রিপন) উদ্ধার করে প্রথমে রামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যান। সোমবার ভোরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
রামগঞ্জ ও রায়পুর থানার সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) শেখ সাদি জানান, ঘটনার পরই রামগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমদাদুল হক ও সহকারী পরিদর্শক কাউসারেরজ্জামান তদন্ত শুরু করেন। তদন্ত শেষে ঘটনার সাথে জড়িত থাকায় আলভী দেওয়ান হৃদয় নামে একজনকে নারায়ণগঞ্জ থেকে আটক করেন। পরে তার দেয়া তথ্যমতে সহযোগী দু’জনকে বিভিন্ন স্থান থেকে আটক করতে আমরা সক্ষম হই।











