লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে অটোরিকশা ছিনতাই করতে গিয়ে চালককে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় তিন যুবককে আটক করেছে রামগঞ্জ থানা পুলিশ। আটকৃকতরা হলো- রামগঞ্জ উপজেলার দরবেশপুর ইউনিয়নের দেওয়ান বাড়ির মোক্তার হোসেনের ছেলে আলভী দেওয়ান হৃদয়, চাটখিল উপজেলার সুন্দরপুর বড় বাড়ির মৃত বাবুল মিয়ার ছেলে সুজন ও নোয়াখালীর চরজব্বর ইউনিয়নের পশ্চিম চরজব্বার গ্রামের আলী আজগরের ছেলে বেলাল হোসেন। নিহত অটোরিকশাচালক রিপন হোসেন (৪৫) রামগঞ্জ পৌর এলাকার কাজীরখীল গ্রামের মনির উদ্দিন ব্যাপারী বাড়ির আবদুল কাদেরের ছেলে ও পাঁচ সন্তানের জনক।
রামগঞ্জ থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ৪টায় অজ্ঞাত এক যাত্রী রামগঞ্জ বাস টার্মিনাল থেকে পৌর জগৎপুর গ্রামে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রামগঞ্জ পৌর এলাকার কাজীরখীল গ্রামের রিপন হোসেনের অটোরিকশাটি ভাড়া করে। ৪টার দিকে আঙ্গারপাড়াস্থ রজব আলী মেম্বার বাড়ি এলাকায় গেলে আরো দুই যাত্রী তার অটোরিকশায় ওঠে। কিছুক্ষণ পরই চালক রিপন কিছু বুঝে ওঠার আগেই যাত্রীরা তার চোখে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে অটোরিকশাটি ছিনতাইয়ের চেষ্টা করে। এ সময় ছিনতাইকারীদের হাত থেকে অটোরিকশাটি রক্ষার চেষ্টা করলে তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে রিপনের বুকে ও পেটে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে তার সাথে থাকা দুই হাজার টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর একই রাস্তা দিয়ে অন্য একটি অটোরিকশা যাওয়ার পথে রাস্তার পাশে রিপনকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। এ সময় তিনি রিপনের মোবাইল থেকে তার ভাই তপনকে ফোন দিলে তিনি ঘটনাস্থলে এসে ভাইকে উদ্ধার করে প্রথমে রামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে ঢাকার একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। সোমবার ভোরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রিপনের মৃত্যু হয়।
রামগঞ্জ ও রায়পুর থানার সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) শেখ সাদি জানান, ঘটনার পরপরই রামগঞ্জ থানা পুলিশের ওসি এমদাদুল হক ও সহকারী পরিদর্শক কাউসারেরজ্জামান তদন্তে নেমে পড়েন। তদন্ত শেষে ঘটনার সাথে জড়িত থাকায় আলভী দেওয়ান হৃদয় নামের একজনকে নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেয়া তথ্যমতে সহযোগী দু’জনকে বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।