- অসহযোগ আন্দোলন রাষ্ট্র ও সরকারকে অচল করে দেবে : প্রফেসর দিলারা চৌধুরী
- এই আন্দোলন সফল হলে রাষ্ট্র একটি কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হবে : বদিউল আলম মজুমদার

বিএনপির ঘোষিত অসহযোগ আন্দোলনকে স্বাগত জানিয়েছে বিএনপিসহ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। গতকাল বুধবার বিরোধী দলগুলোর তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে এমনটাই জানা গেছে।
বিরোধী নেতাকর্মীরা বলছেন, দীর্ঘদিন যাবৎ আমরা ভোটের অধিকার আদায়ের আন্দোলন করছি। কিন্তু সরকারের আচরণে মনে হচ্ছে তারা বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের রাষ্ট্রের নাগরিক মনে করেন না। তারা আমাদের বিরুদ্ধে লাখ লাখ মিথ্যা ও গায়েবি মামলা দিয়েছে। তাই আমরা এই সরকারকে বৈধ মনে করি না। যেহেতু আমাদের অর্থে রাষ্ট্র পরিচালিত হচ্ছে, সেহেতু আমরা এই অবৈধ সরকারকে আর কোনো ট্যাক্স দিবো না। আমরা সরকারকে কোনো রকম সহযোগিতা করব না। নেতাকর্মীরা আরো বলেন, আমাদের ট্যাক্সের টাকায় বেতন পাওয়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আমাদের ওপর বহু নির্যাতন-নিপীড়ন চালিয়েছে। আজ থেকে আমরা ট্যাক্স বন্ধ করে দিলাম। দেখি সরকার তাদের কোথা থেকে বেতন দেয়।

এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, বিএনপিসহ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর ডাকা অসহযোগ আন্দোলন রাষ্ট্র ও সরকারকে অচল করে দিবে। তারা বলছেন, বিএনপি-জামায়াতসহ নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনরত ৬০টি বিরোধী রাজনৈতিক দল এদেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করে। তারা রাষ্ট্রক্ষমতায় না থাকলেও এতদিন রাষ্ট্রকে ট্যাক্স দিয়ে গেছেন। সরকার তাদের বিরুদ্ধে গায়েবি মামলা দিলেও তারা দেশের প্রচলিত আইন মেনে আদালতে গেছেন। এখন এই বৃহৎ গোষ্ঠী যখন সরকারকে ট্যাক্স দিবে না তখন সরকারের বড় বড় কথা বন্ধ হয়ে যাবে। যখন এরা আদালতে যাবে না তখন দেশের বিচারব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়বে। তারা ঘরে বসে যদি অসহযোগিতা করে তখন সরকার কয়জনকে পুলিশ দিয়ে ধরে আনবে? এত নেতাকর্মী ধরে এনে কোথায় রাখবে? কারাগারগুলোতে তো জায়গা হবে না। সেখানেও বিদ্রোহ হবে।
অসহযোগ আন্দোলনের বিষয়ে তাঁতী দলের সদস্যসচিব আলহাজ মজিবুর রহমান বলেন, বিএনপি দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল। বিএনপি নেতাকর্মীরা সরকারের হামলা, মামলা ও নির্যাতনে ঘরে থাকতে পারছে না। তারপরও এতদিন সরকারকে ট্যাক্স দিয়েছে। কিন্তু আজ থেকে এই সরকার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমরা কোনো প্রকার ট্যাক্স দিবো না।
কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক নেতা ও ঝালকাঠি জেলা বিএনপি নেতা গোলাম আযম সৈকত বলেন, অসহযোগ আন্দোলনের ঘোষণা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত। হরতাল-অবরোধ কর্মসূচিগুলোতে সরকার এতদিন নিজেরা গাড়িতে আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে বিএনপি নেতাকর্মীর নামে মামলা দিয়েছে। আর আমাদের ট্যাক্সের টাকায় পাতানো নির্বাচনের আয়োজন করছে। তাই আজ থেকে আমরা ঘরের বিদ্যুৎ বিলও দিবো না।

রূপগঞ্জ উপজেলা যুবদল নেতা শফিকুল ইসলাম শফিক বলেন, রূপগঞ্জ উপজেলায় শুধু যুবদলের কয়েক হাজার নেতাকর্মী মিথ্যা ও গায়েবি মামলার শিকার। এত দিন আমরা এসব মিথ্যা ও গায়েবি মামলায় আদালতে হাজিরা দিয়েছি। আজ থেকে আর আদালতে যাবো না। কতজনকে পুলিশ গ্রেফতার করে দেখব। প্রয়োজনে সবাই একসাথে গ্রেফতার হবো। কিন্তু আমরা গুলি কিনতে ট্যাক্স দিবো না।
এ বিষয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষক প্রফেসর দিলারা চৌধুরী বলেন, অসহযোগ আন্দোলন রাষ্ট্র ও সরকারকে অচল করে দিবে। বর্তমান সরকারের অতিরিক্ত বাড়াবাড়ির ফলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
দিলারা চৌধুরী বলেন, রাষ্ট্র যে জনগণের ট্যাক্সের টাকার ওপর নির্ভরশীল এটা বর্তমান সরকার ভুলে গিয়েছে। তারা দেশের জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। এখন জনগণ যদি ট্যাক্স বন্ধ করে দেয় সরকার কী করবে?
তিনি বলেন, বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোর লাখ লাখ নেতাকর্মী মিথ্যা ও গায়েবি মামলার শিকার। তারা যদি এখন আদালতে যাওয়া বন্ধ করে দেন তাহলে পুলিশ কতজনকে ধরে আনবে? পুলিশের সেই ফোর্স কি আছে? নেই। তাই আমি মনে করি, দেশের পরিস্থিতি খুব অস্বাভাবিক। তাই সরকারের হাতে এখনো সময় আছে দেশের স্বার্থে পদত্যাগ করে সুষ্ঠু নির্বাচনের রাস্তা করে দেয়ার। তা না হলে রাষ্ট্রে যেই পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে তার দায় রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগকেই বহন করতে হবে।

সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, বিএনপি যে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দিয়েছে জনগণ তাতে সাড়া দিলে রাষ্ট্র ও সরকার কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হবে। বাস্তবতা হলো বর্তমান সরকারের ওপর বিএনপিসহ দেশের বৃহৎ একটি গোষ্ঠীর নানা ধরনের ক্ষোভ রয়েছে। তারা নানা নির্যাতনের শিকার হয়েছে। তাই সরকারের বর্তমান অবস্থান থেকে সরে এসে আলোচনার টেবিলে বসা উচিত। একমাত্র আলোচনার টেবিলেই দেশের এই সমস্যার সমাধান হতে পারে।
সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেন, সরকার রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণ করার মাধ্যমে দেশে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে তাতে অসহযোগ আন্দোলন ছাড়া জনগণের কোনো বিকল্প রাস্তা নেই। আমি মনে করি, বিচার বিভাগসহ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণের বিরুদ্ধে জনগণের যে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর প্রয়োজন ছিল তার উপযুক্ত জবাব হলো অসহযোগ আন্দোলন।