নিজেই প্রার্থী। নিজেই কর্মী। ফুলে ফুলে সাজানো বাই সাইকেলে বেঁধেছেন মাইক। ছুটছেন ভোটারের দ্বারে দ্বারে। অত্যন্ত সহজ-সরল, সাদা-মাটা জীবন-যাপনে অভ্যস্থ কুড়িগ্রাম-১ (নাগেশ্বরী-ভুরুঙ্গামারী) আসনে এ প্রার্থীর নাম আব্দুল হাই।

তিনি দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে জাকের পার্টির মনোনয়ন নিয়ে গোলাপ ফুল প্রতীকে নির্বাচন করছেন। প্রতিবার ভোট এলেই মনোনয়ন দাখিল করে তিনি বেরিয়ে পড়েন এই বেশে।

এর আগে তিনি চারবার ইউপি চেয়ারম্যান, চারবার উপজেলা চেয়ারম্যান, চারবার জাতীয় সংসদ সদস্য পদে নির্বাচন করেন।

২০০৩ সালে তিনি বঙ্গসোনাহাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এবং ২০০৯ সালে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। সে সময় স্থানীয় জনসাধারণ নগদ টাকা, বাড়ি বাড়ি চাল ও মুড়ি তুলে তাকে সহায়তা করেছিলেন।

উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবার পর তিনি বেশিরভাগ সময় ড্রেন ও ঝাড় দিয়ে রাস্তা-ঘাট পরিস্কার করে মানুষের আলোচনায় এসেছেন। ব্যক্তিগত জীবনে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল হাই স্কুলশিক্ষক ছিলেন। গত বছরের অক্টোবর মাসে তিনি ভুরুঙ্গামারীর চর-ভূরুঙ্গামারী উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক হিসেবে চাকরি জীবন শেষ করে অবসর নেন। এবার স্বপ্ন জাতীয় সংসদ সদস্য হওয়ার।

বিএনপি বিহীন এ নির্বাচনে কুড়িগ্রাম-১ আসনে এবারে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী নাগেশ্বরী উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সাংসদ আছলাম হোসেন সওদাগর দলীয় সিদ্ধান্তে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করায় শেষ পর্যন্ত ভোটের লড়াইয়ে আছেন আব্দুল হাইসহ জাতীয়পার্টি (লাঙ্গল) প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য এ কে এম মোস্তাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন প্রার্থী লতিফুল কবীর রাসেল (ফুলের মালা), ন্যাশনাল পিপলস পার্টির নুর মোহাম্মদ (আম) ও বাংলাদেশ সুপ্রীম পার্টির মনিরুজ্জামান খান ভাসানী (একতারা)।

এদের মধ্যে ন্যাশনাল পিপলস পার্টির নুর মোহাম্মদ ও বাংলাদেশ সুপ্রীম পার্টির মনিরুজ্জামান খান ভাসানী এবারেই প্রথমবার ভোট করছেন। তাদেরকে ভোটাররা তেমন একটা চেনেন না। একাধিকবার সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীতা করলেও ভোটের মাঠে তরিকত ফেডারেশনের লতিফুল কবির রাসেলের অবস্থান অনেক নিচে। জাতীয়পার্টির রয়েছে একটা ভোট ব্যাংক। তবে বিএনপি নির্বাচনে না আসায়, আওয়ামী লীগ প্রার্থী না থাকায় ধীরে ধীরে সমর্থন বাড়ছে আব্দুল হাইয়ের। সময় যত যাচ্ছে ততই স্পষ্ট হচ্ছে বিষয়টি। শেষ পর্যন্ত লাঙ্গলের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারে গোলাপ ফুল।

জয়ী হতে একাই ছুটছেন প্রার্থী আব্দুল হাই। তার বাইসাইকেলে লাগানো থাকছে বিভিন্ন রঙ্গের কৃত্তিম গোলাপ ফুল। ঝুলানো থাকছে একটি কাপড়ের ব্যাগ। তার ভেতরে রয়েছে কাপড়-চোপড়সহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। নির্বাচনী প্রচার করতে গিয়ে যেখানে রাত হচ্ছে সেখানেই কোনো বাড়িতে রাত্রিযাপন করছেন। পরদিন সেখান থেকে আবার শুরু করছেন প্রচারণা। এভাবেই ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি।

প্রচারণার এ সময়ে কথা হয় তার সাথে। তিনি বলেন, সর্বশেষ ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাকের পার্টির প্রার্থী হিসাবে জাতীয় সংসদের ২৫, কুড়িগ্রাম-১ আসনে (নাগেশ্বরী-ভূরুঙ্গামারী) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছি। এবারো জাকের পার্টির প্রার্থী হিসেবে গোলাপ ফুল মার্কা নিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছি। আমি শেষ পর্যন্ত লড়ে যাব। কোনো বাধাই আমাকে আটকাতে পারবে না। চেয়ারম্যান হয়েছি, উপজেলা চেয়ারম্যানও হয়েছি। বাকি আছে জাতীয় সংসদ সদস্য হওয়ার। গত এক বছর থেকে নির্বাচনী প্রচারণার কাজ শুরু করেছি। প্রতিটি এলাকায় জনগণের বিপুল সাড়া পাচ্ছি। আমি বুঝতে পারছি, আল্লাহ আমার ইচ্ছা পূরণ করবে এবং আমাকে এমপি বানাবে। আমি এমপি নির্বাচিত হলে দুধকুমার নদের পাড়ে একটি নদী বন্দর স্থাপন, মাধ্যমিক শিক্ষকদের এককালীন পেনশন ব্যাবস্থা সহজীকরন, নদী ভাঙ্গন রোধসহ বিভিন্ন সমস্যা সংক্রান্ত-বিষয় নিয়ে মহান জাতীয় সংসদে বিল উত্থাপন করে পাশের চেষ্টা করব।

আব্দুল হাইয়ের প্রচারণা শুনতে আসা জাহাঙ্গীর, জুয়েল, আব্দুর রহমান, শাহজাহান আলী, লিয়াকত আলী ও সবুর মিয়া বলেন, মানুষ আব্দুল হাই মাস্টারকে পাগল বলুক, আর যাই বলুক। আমরা উপজেলা নির্বাচনের সময় যেমনভাবে তাকে ভোট দিয়েছি। এবার সংসদ নির্বাচনে আমাদের এলাকার লোক হিসেবে আমরা তাকে ভোট দিয়ে জাতীয় সংসদে পাঠাব। যাতে তিনি এলাকার মানুষের সেবা করতে পারেন ও আমাদের মতো গরিব মানুষের মনের কথাগুলো মহান সংসদে উত্থাপন করে কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে পারেন।