জয়পুরহাটের পাঁচবিবি হাটের ইজারাসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে তথাকথিত নাগরিক কমিটির নামে একটি মহল লিফলেট বিতরণসহ মিটিং করে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করে জনমনে বিভ্রান্ত সৃষ্টি ও মান ক্ষুণœ করায় অভিযোগ করেছেন পৌর মেয়র আলহাজ হাবিবুর রহমান হাবিব।
গতকাল মঙ্গলবার পৌর কার্যালয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের সামনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, হাট ইজারা সরকারি নীতিমালার সব বিধিবিধান, নিয়মকানুন মেনে পৌর পরিষদের সাধারণ সভার অনুমোদনে ১৯৩১ বাংলা সনে বালিঘাটা হাট-ইজারা প্রদান করা হয়েছে। তথাকথিত নাগরিক কমিটির পাঁচ কোটির গল্প একটি নিছক অপপ্রচার। জয়পুরহাটসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলার সব হাটের চেয়ে পাঁচবিবি হাট-বাজার অনেক বেশি মূল্যে ইজারা প্রদান করা হয়েছে। তাদের কথায় যদি ইজারা মূল্য পাঁচ কোটি টাকা হয় তাতে তো পৌরসভারই লাভ। এ সহজ হিসাবটা আমি কেন বুঝব না? তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের আগে এই হাট যে মূল্যে ইজারা প্রদান হয়েছে, আজ তার চেয়ে ৩-৪ গুণ বেশি মূল্যে ইজারা প্রদান করা হয়েছে। সুশাসন এবং সুন্দর ব্যবস্থাপনার জন্য আমাদের হাট আজ দুই কোটি ৬৪ লাখ টাকায় ইজারা প্রদান করতে পেরেছি। এ বিষয়ে যদি তাদের ন্যূনতম অভিজ্ঞতা থাকত তবে দরখাস্তটি মেয়র বরাবর করতেন। এসব সাধারণ মানুষের মনোযোগ আকর্ষণের জন্য মিথ্যা ভাষণ। পাঁচবিবিতে নতুন নতুন মার্কেট নির্মাণ করতে গিয়ে কিছু দোকানদারের কষ্ট হয়েছে। কোনো লোক দোকান পায়নি, মানবেতর জীবনযাপন করছে এসবই মিথ্যা।

মার্কেটের উদাহরণ টেনে বলেন, একজন ব্যক্তিও এ রকম নাই যিনি দোকান পাননি। কাঁচাবাজারে এখনো মার্কেটের ভেতর ১৭টি দোকান খালি পরে থাকার কথা বলেন। তাদের কল্পনায় কাকে ব্যবসায়ী সৃষ্টি করে মিথ্যা অপপ্রচার করছেন তা বোধগম্য নয়। একইভাবে সিকিউরিটির নামে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাতের কথা বলেছেন, যা মিথ্যা। সরকারি টাকা হাতে নগদ নেবার বিধান নাই, ব্যাংক ড্রাফটের মাধ্যমে পৌরসভার অ্যাকাউন্টে টাকা নেয় হয়। সেই টাকা পৌরসভা থেকে নিয়ম-কানুনের মাধ্যমে উত্তোলন করতে হয় এবং সেটা প্রতি মাসের মাসিক সভায় উপস্থাপন হয়। প্রতি বছর মন্ত্রণালয় থেকে অডিটর এসে অভিট করে থাকেন। বিষয়গুলো যত সহজে উনারা বলে গেছেন বা লিফলেটে লিখে গেছেন তা সহজ বিষয় নয়। তাদের এমনি অনেক মিথ্যা তথ্য পরিবেশন করায় আমি তীব্র ঘৃণা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। তিনি বলেন, আমিও তো একজন নাগরিক, এ কমিটির গঠন বিষয়ে জানি না, সাধারণ নাগরিকেরাও তেমনি জানে না। তিনি তথাকথিক নাগরিক কমিটিকে প্রশ্ন রেখে বলেন, এই পৌরসভার কত মানুষের মতামতের ভিত্তিতে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে? উনারা নাগরিকের দাবি আদায়ে কোনো কোনো সময় জেগে উঠেন? নাগরিকের জন্য কী কী ভালো কাজ করেছেন? তারা কি শুধু পৌরসভার ইজারায়। তিনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের একজন কর্মী দাবি করে বলেন, বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার অংশ হিসাবে পাঁচবিবি পৌরসভাকে গড়ে তোলার জন্য যখন পরিশ্রম করে যাচ্ছি, তখন একটি বিশেষ মহলের ইন্ধনে আমার বিরোধী কুচক্রি মহল আমার সম্মানহানি এবং পৌরসভার উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতে অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। বাংলার সফল প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। কোনো ষড়যন্ত্র বাধা আমার এই অপ্রতিরুদ্ধ গতিকে আটকাতে পারবে না। এ সময় প্যানেল মেয়রসহ প্রায় সব কাউন্সিলর উপস্থিত ছিলেন।