রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় হঠাৎ করে গরুর ল্যাম্পি স্কিন রোগ দেখা দিয়েছে। গত এক মাসে এ উপজেলায় ল্যাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত হয়ে কমপক্ষে ২০টি গরুর মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া আক্রান্ত হয়েছে আরো পাঁচশতাধিক গরু।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের পরামর্শে ভ্যাকসিন-ওষুধ দিয়েও এ রোগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে উপজেলার কৃষক ও খামারিরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। বিষয়টি প্রাণিসম্পদ অধিদফতরকেও ভাবিয়ে তুলছে। তাই পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ইতোমধ্যে আক্রান্ত গরুর রক্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
গতকাল বুধবার সকালে জানকীপুর গ্রামে সরেজমিন দেখা যায়, ওই গ্রামের রহমত আলীর প্রায় ১১ মণ ওজনের ফ্রিজিয়ান ষাঁড় ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। পূর্বপাড়ায় রাজু মিয়ার একটি, নাওফেল মিয়ার দুটি, রবিউলের দুটি, রাজ্জাকের একটি ও বাদলের একটিসহ মোট ২০টি গরু মারা গেছে।
জানকীপুর রজ্জব আলী বলেন, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে তার গরুটি ক্ষুরারোগে আক্রান্ত হয়ে অনেকটা সেরে গিয়েছিল। গত সোমবার গরুকে পানি খাওয়ানোর পর সেটি অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং কয়েক মিনিটের মধ্যেই মারা যায়। ওই গ্রামের ধীরেন চন্দ্র জানান, মঙ্গলবার সকালে তার ৫০ হাজার টাকা মূল্যের একটি বকনা বাছুর মারা যায়। গরুটিকে ভ্যাকসিনসহ ওষুধ দিয়েও বাঁচানো গেল না।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা: একরামুল হক মণ্ডল বলেন, খবর পেয়ে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে এ রোগের প্রতিষেধক ভ্যাকসিনসহ মানুষের মধ্যে জনসচেতনতা সৃষ্টি, উঠান বৈঠক ও মেডিক্যাল ক্যাম্প করে রোগের প্রতিকার সম্পর্কে অবগত করা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, এ রোগটি ক্ষুরা ও ল্যাম্পি স্কিন রোগের নতুন ধরন। তাই আমরা ঊর্ধ্বতন প্রাণিসম্পদ বিভাগের বিশেষজ্ঞ দলকে অবহিত করেছি। তারা এসে আক্রান্ত গরুর রক্ত সংগ্রহ করে নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারব এর আসল রূপ কী। আশা করছি, আগামী সপ্তাহে এর ফলাফল পাওয়া যাবে। এরপর করণীয় কী তা নির্ধারণ করা সহজ হবে।
মিঠাপুকুরে ল্যাম্পি স্কিন রোগে ২০টি গরুর মৃত্যু
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় হঠাৎ করে গরুর ল্যাম্পি স্কিন রোগ দেখা দিয়েছে। গত এক মাসে এ উপজেলায় ল্যাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত হয়ে কমপক্ষে ২০টি গরুর মৃত্যু...





