লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার বিরেন্দ্র খাল ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। ময়লার স্তূপের কারণে খাল থেকে বন্যার পানি নামতে পারছে না। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ফেলা প্রতিদিনকার ময়লা আবর্জনা জমে জমে খালের এমন অবস্থা হয়েছে। পানি প্রবাহে বাধার সৃষ্টি হওয়ায় বন্যা পরবর্তী সময়ে চরম বিপাকে পড়েছেন খালপাড়ের প্রায় সাড়ে চার লাখ মানুষ।
এমন অবস্থায় রামগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে খালটি পরিষ্কার করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করেছেন রামগঞ্জ ব্লাড ডোনারস ক্লাবসহ বেশ কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা। গত বুধবার সকাল থেকে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। চলবে পাঁচ দিন পর্যন্ত। বুধবার বেলা ১১টায় স্বেচ্ছাশ্রমের এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) দেবব্রত দাশ ও রামগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ সোলাইমান।
জানা যায়, রামগঞ্জ বাস টার্মিনালের পেছন থেকে সোনাপুর উত্তর বাজার সেতু পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার জায়গায় ময়লা আবর্জনা জমে জমে পানি নিষ্কাশন একেবারে বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানের ভয়াবহ বন্যায় পানি চলাচল করতে না পারায় স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো এটি পরিষ্কারের উদ্যোগ নেয়।
স্থানীয় বাসিন্দা জাকির মোস্তান বলেন, আমাদের চারপাশে খালখেকো, বালুখেকো, কৃষিজমি খেকোর ছড়াছড়ি। এদের কারণে পরিবেশ-প্রকৃতি হুমকির মুখে। প্রশাসন এবং শহরবাসীর প্রচেষ্টায় দখলকারী, দূষণকারীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে এবং খালটিকেও রাখতে হবে পরিষ্কার।
স্থানীয় বাসিন্দা রেদোয়ান সালেহীন নাঈম ও ইকবাল হোসেন বলেন, এই খাল পরিষ্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা গেলে উপজেলা শহরের মানুষ স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ ফিরে পাবে। তা ছাড়া এই খালকে বাঁচিয়ে রাখাটাও জরুরি।
রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন ইসলাম বলেন, তরুণ ও যুবকদের এমন কাজকে স্বাগত জানাতেই হয়। স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে খাল পরিষ্কার করার যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে তা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। উপজেলা প্রশাসন সবসময় এ ধরনের উদ্যোগে সহযোগিতা করে।





