কক্সবাজারের উখিয়ার রত্নাপালং ইউনিয়নের থিমছড়ি এলাকায় পুকুরের পানিতে ডুবে হালিমাতুস সাদিয়া (৬) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে বাড়ির পাশের পুকুরে পা ধোয়ার সময় পা পিছলে পড়ে গেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
শিশু সাদিয়া রত্নাপালং ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোহাম্মদ কালুর একমাত্র মেয়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে পরিবারের সবাই ঘরের কাজে ব্যস্ত থাকার সময় সাদিয়া একা পুকুরপাড়ে যায়। অনেকক্ষণ পর তাকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। পরে পুকুরে তার নিথর দেহ ভাসতে দেখা যায়।
স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
একই দিন (২৬ জুন) দুপুর ২টায় থিমছড়ি ফকির মিয়াজি জামে মসজিদের মাঠে নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
হালিমাতুস সাদিয়া ছিল মোহাম্মদ কালুর তিন সন্তানের মধ্যে একমাত্র কন্যা। দুই ছেলের পাশাপাশি মেয়েটিকে ঘিরেই ছিল তাদের পরিবারের সব স্বপ্ন ও স্নেহ। আদরের এই শিশুকে হারিয়ে তার মা-বাবা বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন, পুরো পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে এ ধরনের পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে।
স্থানীয়রা বলছেন, ঘরবাড়ির পাশে খোলা জলাশয়, পুকুর কিংবা খাল থাকলে শিশুদের প্রতি সর্বোচ্চ নজরদারি নিশ্চিত করা জরুরি। শিশুদের একা পুকুরে যেতে না দেয়া এবং প্রাথমিক সাঁতার শেখানো—এই দুটি বিষয় মেনে চললে অনেক দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকদের দাবি, থিমছড়ির মতো পাহাড়ি ও জলাশয়ঘেরা এলাকায় পুকুরপাড়ে রেলিং বা বাঁশের বেষ্টনি দেয়া, স্থানীয় শিশুদের সুরক্ষামূলক সচেতনতা প্রশিক্ষণ এবং মা-বাবাদের অভিভাবকত্ব আরো জোরদার করতে হবে।








