রংপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হত্যা চেষ্টা মামলায় আওয়ামী লীগের এমপি মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির আস্থাভাজন লিপি খান ভরসাকে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

রোববার (১৬ মার্চ) সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে তাকে রাজধানীর গুলশানের একটি ফ্লাট থেকে গ্রেফতার করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মজিদ আলী জানান, রোববার রাজধানীর গুলশান-২ এর ১১৭নং রোডের ৯ এর বি ফ্ল্যাট থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

এর আগে শনিবার দুপুর থেকে গুলশান থানা ও রংপুর মেট্রোপলিটন কোতয়ালি থানা পুলিশ ওই বাড়ি ঘিরে রাখে। কিন্তু তারা দরজা খুলছিলেন না। পরে ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি নিয়ে দরজা ভেঙে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার সাথে স্বামী সাইফুল ইসলাম শিমুল ভরসা ছিলেন। মাসুদ নামের এক ব্যক্তির ওই ফ্লাটটি ভাড়া নিয়ে বসবাস করছিলেন তারা।

ঘটনাস্থলে থাকা মামলার তদন্ত কর্মকর্তার রংপুর কোতয়ালি থানার এসআই মোস্তাফিজার রহমান জানান, লিপি খান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গুলিতে আহত বিএনপি নেতা মামুনুর রশিদ মামুনের করা হত্যা চেষ্টা মামলার ১৭৯ নম্বর এজাহারভূক্ত আসামি। এর আগে বৃহস্পতিবার লিপি খানের ম্যানেজার পলাশ হাসান বাদি হয়ে ওই মামলা থেকে লিপি খানের নাম বাদ দেয়ার জন্য আওয়ামী লীগের ব্যবসায়ী অমিত বণিক কর্তৃক উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ শিবলী কায়সারের নামে ১০ লাখ চাঁদাদাবির মামলা করেন। ওই মামলায় অমিত বণিককেও গ্রেফতার করে পুলিশ।

ও চাঁদাবাজির মামলায় পুলিশ কর্মকর্তা শিবলীর নাম এজাহারে উল্লেখ করা নিয়ে বাদি পলাশ হাসানকে থানায় মারধোর এবং কনেস্টবলের রাইফেল কড়ে নিয়ে গুলি করতে উদ্যত হওয়ার ঘটনায় একটি সাধারণ ডায়েরি হয়। পরে শনিবার পুলিশ কর্মকর্তা শিবলী কায়সার রংপুর মেট্রোপলিটন থেকে প্রত্যাহার করে সদর দপ্তরে রিপোর্ট করার আদেশ জারি হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, লিপি খান ভরসা সাবেক বাণিজ্য মন্ত্রী টিপু মুনশির আস্থাভাজন নেত্রী ছিলেন। একই সাথে ঘনিষ্ট ছিলেন সাবেক মহিলা এমপি নাছিমা জামান ববির। তাদের টিপু মুনশি এবং নাছিমা জামান ববির সাথে ছবি দিয়ে পোস্ট দিয়ে সব সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরগরম থাকতেন লিপি খান ভরসা। লিপি খান ভরসার বাড়ি পাবনা। একসময় অভিজাত হোটেলে নাচগান ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত ছিলেন তিনি।

তিনি সাবেক এমিপি মরহুম করিম উদ্দিন ভরসার পুত্র বধূ। তার বিরুদ্ধে ভরসা পরিবারের জমিজমা জাল জালিয়াতি করে আত্মসাতের অভিযোগে মামলাও রয়েছে। আওয়ামী লীগ আমলে মহিলা এমপির জন্য মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন তিনি।