বরগুনা জেলা বিএনপির কার্যালয় ভাঙচুর,অগ্নিসংযোগ অভিযোগে সাবেক তিন সাংসদ ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু, শওকত হাচানুর রহমান রিমন ও সুলতানা নাদিরাসহ ২৩১ নেতাকর্মীর নামে আদালতে মামলা করা হয়েছে।

বুধবার (২৩ জুলাই) বিএনপির শহিদুল ইসলাম নামের এক কর্মী বিশেষ ক্ষমতা আইনে আদালতে এ মামলা করেন।

বরগুনার অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো: মনিরুজ্জামান এ মামলা গ্রহণ করে বরগুনা থানার ওসিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এর আগে এসএম নঈমুল ইসলাম ১৫৮ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে এ মামলা করেছেন।

মামলার বাদী শহিদুল ইসলাম বিএনপি কর্মী, সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের একজন সদস্য।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ৩০ মে বেলা অনুমান ৩টার দিকে এ ঘটনা দেখিয়ে তিনি আদালতে অভিযোগ করেন, প্রধান আসামি বরগুনা-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর নেতৃত্বে ২৩১ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী বরগুনা জেলা বিএনপির কার্যালয় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন। এসময় তারা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ছবিও ভাঙচুর করেন।

বাদী শহিদুল ইসলাম জানান, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার কারণে এতোদিন তিনি এ মামলা করতে পারেননি। এ ঘটনার তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা বেড়িয়ে আসবে।

বরগুনা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কোর্ট ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক আবদুল ওয়াসি মতিন বলেন, ‘আমি শুনেছি শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে আওয়ামী লীগের ২৩১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। আমরা অল্প দিনের মধ্যে মিটিং ডেকে এ বিষয়ে সভায় আলোচনা করব।’

এ মামলায় উল্লেখ যোগ্য যাদের আসামি করা হয়েছে এরা হলেন- বরগুনা-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ধীরেন্দ্র দেবনাথ শমাভু, বরগুনা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শওকত হাচানুর রহমান রিমন ও সাবেক সংসদ সদস্য সুলতানা নাদিরা, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মনির, বরগুনা সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক শাহ মোহাম্মদ ওয়ালি উল্লাহ অলি, সাবেক জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহাবুদ্দিন সাবু, বরগুনা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি আক্তারুজ্জামান বাহাদুর।

এ বিষয়ে বরগুনা জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মো: নজরুল ইসলাম মোল্লা বলেন, আমাদের দলীয় কার্যালয় ভাংচুরের ঘটনায় আগে একটি মামলা করা হয়েছে।

একই ঘটনাস্থল একই ঘটনা দেখিয়ে বিশেষ ক্ষমতা আইনে এস এম নঈমুল ইসলাম চলতি বছর ৩০ মে ১৫৮ জন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীসহ আইনজীবীর বিরুদ্ধে একটি মামলা করে। সেই মামলায় ঘটনা দেখিয়েছে ২০২৩ সালের ১৭ মার্চ।