মুন্সীগঞ্জ-২ আসনের বিএনপি সংসদ সদস্য প্রার্থী মিজানুর রহমান সিনহা বলেছেন, ‘গ্রামীণ স্বাস্থ্য সেবায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করব। যাতে একজন মানুষও বিনা চিকিৎসায় মারা না যায়। আমি ঔষধকে শিল্পে পরিণত করব এবং বৈশ্বিক নির্ভরতা কমিয়ে আনব।’
দৈনিক নয়া দিগন্তের জেলা প্রতিনিধির সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় এ রাজনীতিবিদ তার জীবনী তুলে ধরেন প্রতিবেদকের কাছে।
মিজানুর রহমান সিনহা ১৯৪৩ সালের ১৮ আগস্ট মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার ডহুরী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মরহুম হামিদুর রহমান সিনহা এবং অ্যাকমি গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা নূরজাহান সিনহা দম্পত্তির সন্তান। শিক্ষা জীবনে তিনি নারায়ণগঞ্জ সরকারি তুলারাম কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাণিজ্যে স্নাতক (বি কম) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি (এম এ) লাভ করেন। ১৯৬৪ সালে ব্যাংকার পেশায় কর্মজীবন শুরু করেন সিনহা।
এদিকে বাবার মৃত্যুর পর ১৯৭৫ সালে অ্যাকমি ল্যাবরেটরিজ’র ব্যবসায়িক দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি। পরে ১৯৮৩ সালে ম্যানেজিং ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব নেন। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের ফার্মাসিউটিক্যাল খাতে একমিকে শীর্ষ ব্রান্ডে পরিণত করেন।
ব্যক্তি জীবনের পাশে রাজনৈতিক জীবনও বেশ বর্ণাঢ্য তার। ছাত্রজীবনে নারায়ণগঞ্জ তুলারাম কলেজে ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন মিজানুর রহমান। পরে ১৯৯০ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) যোগ দেন তিনি। এদিকে কেন্দ্রীয় কমিটিতে কোষাধ্যক্ষ পদে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেন সিনহা। পরে টংগীবাড়ি-লৌহজং সংসদীয় আসন-২ থেকে পরপর দু’বার (১৯৯৬ ও ২০০১) সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
এদিকে ২০০১-২০০৬ সাল পর্যন্ত স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ছিলেন এ রাজনীতিবিদ। পরে ২০২৫ সালে পুনরায় মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। প্রতিমন্ত্রী থাকাকালে স্বাস্থ্য খাতে ঔষধ শিল্পের প্রসার, পরিবার পরিকল্পনা সচেতনতা বৃদ্ধিতে অবদান রাখেন তিনি। তার একটি ছেলে ও মেয়ে সন্তান রয়েছে।
এছাড়া তারা দাদা আনসার উদ্দিন সিনহাও ছিলেন একজন ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদ। বিভিন্ন কাজের জন্য তিনি সম্মাননা ও স্বীকৃতি পেয়েছেন। বিসিআইসি সম্মাননা, এফবিসিসিআই রফতানি পুরস্কার ও ফার্মাসিউটিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন থেকে বিশেষ অবদান পুরস্কার ছিল অন্যতম।
মিজানুর রহমান সিনহা একজন বহুমাত্রিক ব্যক্তিত্বের অধিকারী। দীর্ঘ কর্মজীবনে ব্যবসা-রাজনীতির মিলন বিন্দুতে অবস্থান করেছেন তিনি। সফল ব্যবসায়ীর পাশাপাশি মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন। নিজ এলাকায় উন্নয়নমূলক ও শিক্ষামূলক কর্মকাণ্ডে যেন অপরিসীম অবদান তার।








