কিশোরগঞ্জের ভৈরবের কলেজছাত্র মোহাম্মদ আলী (২২) হত্যা মামলায় দুই নারীসহ তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। হত্যাকাণ্ডের ১৭ বছর পর আজ মঙ্গলবার তৃতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক ফাতেমা আক্তার স্বর্ণা এই রায় দেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামি হলেন, ভৈরবের ভৈরবপুর উত্তরপাড়া গ্রামের মৃত শাফিল উদ্দিনের ছেলে মো: সুমন মিয়া (৩৯), ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার দৌলতদিয়া গ্রামের মো: কাইয়ুম সরকারের স্ত্রী সেলিনা বেগম শিউলী (৪২) ও একই জেলার আশুগঞ্জ উপজেলার সোনারামপুর গ্রামের মৃত আব্দুল খালেকের মেয়ে শোভা ওরফে মেঘলা (৩৭)।
রায় ঘোষণার সময় সেলিনা আক্তার শিউলী উপস্থিত ছিলেন। অন্য দুই আসামি পলাতক রয়েছেন।
রায়ে দণ্ডপ্রাপ্তদের সবাইকে মৃত্যৃদণ্ডের পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ডও করা হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালের ৬ জানুয়ারি রাত ৯টার দিকে ভৈরব হাজী আসমত কলেজের বিএসসি প্রথম বর্ষের আবাসিক শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আলীকে দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্রের আঘাতে হত্যা করে।
এর পরদিন নিহত মোহাম্মদ আলীর বাবা শামসউদ্দিন মিয়া অজ্ঞাতনামাদের আসামি ভৈরব থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্তে চার আসামিকে শনাক্ত করে পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ভৈরব থানার এসআই আব্দুল আজিজ ২০০৮ সালের ৩০ মে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামি ছাড়াও মহরম আলী নামে আরেকজনের নামে অভিযোগপত্র দেয়া হয়। মামলা চলাকালে মহরম আলী মারা যাওয়ায় তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়।
চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়, ওই দুই নারী কলেজছাত্র মোহাম্মদ আলীকে হত্যার জন্য টাকার বিনিময়ে সুমনকে ভাড়া করে। পরে সুমন তার সাঙ্গপাঙ্গদের নিয়ে কলেজছাত্রকে হত্যা করে।
মামলার রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (এপিপি) শফীউজ্জাম বলেন, ওই দুই নারী কলেজ এলাকায় অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। তাদের কর্মকাণ্ডে বাধা দেয়ায় মোহাম্মদ আলীর সাথে বিরোধ তৈরি হয়। এর জেরেই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। আসামিরা আদালতে ১৬৪ ধারায় হত্যাকাণ্ডে তাদের সম্পৃক্ততা স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।
তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী মিজানুর রহমান বলেছেন, আসামিরা ন্যায়বিচার পাননি। তারা উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।








