‘দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগের ত্যাগ-তিতিক্ষা ও আন্দোলনের পথ অতিক্রম করে আমরা ফ্যাসিবাদমুক্ত স্বাধীন বাংলাদেশ পেয়েছি। আর এই স্বাধীনতা রক্ষায় ইস্পাতকঠিন ঐক্যের বিকল্প নেই’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও বরিশাল বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা আকন কুদ্দুসুর রহমান।
গৌরনদী-আগৈলঝাড়া বিএনপির আয়োজিত মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) বিকেলে ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশের প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বরিশালের আগৈলঝাড়া ভেগাই হালদার মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে বিজয় র্যালি শেষে গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
এ সময় কুদ্দুসুর রহমান বলেন, ‘আওয়ামী দুঃশাসনের সময়ে গৌরনদী-আগৈলঝাড়াসহ সারা দেশে বহু সহযোদ্ধা ও একনিষ্ঠ নেতা প্রাণ উৎসর্গ করেছেন। এই সংগ্রামের পথ ছিল বিপজ্জনক ও বেদনাবিধুর। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের যে লড়াই শুরু হয়েছিল, তা ছিল বাঙালির নতুন সূর্যোদয়ের লড়াই। পুলিশের রক্তচক্ষু ও খুনি হাসিনার গুম-খুনের নির্দেশনা উপেক্ষা করে যারা রাজপথে নিরলসভাবে ছিলেন তাদের অবদানেই আজকের ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ।’
আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়া নেতা-কর্মীদের নিষ্ঠুর আন্দোলনের স্মৃতি স্মরণ করে কুদ্দুস বলেন, ‘আওয়ামী দুঃশাসনের সময়ে আগৈলঝাড়ার টিপু ও মনিরকে তথাকথিত ক্রসফায়ারে হত্যা করা হয়। পরে জুলাই-আগস্টে গৌরনদীতে তিনজন এবং আগৈলঝাড়ায় আরো একজন ছাত্রনেতাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং যারা হাসিনার ভয়ংকর দমন নীতির শিকার হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন তাদের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।’
‘স্বাধীনতা রক্ষার কঠিন বাস্তবতা’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতা অর্জন যতটা সহজ, তা রক্ষা করা আরো কঠিন। তারেক রহমানের স্বপ্ন ছিল এমন এক বাংলাদেশ গড়ে তোলা। যেখানে থাকবে নাগরিক ও মৌলিক অধিকার, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন এবং কার্যকর ভোটাধিকারভিত্তিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা।’
দীর্ঘ আন্দোলনের ফলস্বরূপ শেখ হাসিনার পতনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দেড় যুগের ত্যাগ-তিতিক্ষার পর ছাত্র-জনতা পুলিশের রক্তচক্ষু ও গুম-খুনের ভয় উপেক্ষা করে রাজপথে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিল। অবশেষে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে এবং বাংলাদেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়েছে।’
দলীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে আকন কুদ্দুস বলেন, সংগঠনকে শক্তিশালী করতে বিভেদ ভুলে গিয়ে ঐক্যের বিকল্প নেই। বিএনপি কেবল ইস্পাতকঠিন ঐক্যের মাধ্যমেই শক্তিশালী হতে পারে। যারা এই ঐক্যের আহ্বানে অস্বস্তি বোধ করে তারা বিএনপির মূল চেতনা ধারণ করে না।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে কঠোর হুশিয়ারী দিয়ে কেন্দ্রীয় নেতা কুদ্দুস আকন বলেন, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সামাজিক ও রাজনৈতিক অপরাধের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিতে হবে। বিএনপির নাম ভাঙিয়ে কেউ অন্যায়, অত্যাচার বা বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়ালে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে আরো বলেন, প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় নেতাকর্মীদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা নিতে হবে। যেকোনো অপরাধকে অঙ্কুরেই বিনষ্ট করতে হবে। ঐক্যবদ্ধ থাকলেই ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশকে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রূপান্তর করা সম্ভব।
সভায় বীর মুক্তিযোদ্ধা এস এম আফজাল হোসেনের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এস এম মনিরুজ্জামান, জহুরুল ইসলাম জহির, মঞ্জুর হোসেন মিলন, তাইফুর রহমান কচিসহ অন্যরা।








