ঝালকাঠি সংবাদদাতা

ঝালকাঠিতে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদির মৃত্যু সংবাদে বরিশাল-খুলনা আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন ছাত্র-জনতা।

বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাত ১১টায় শহরে বিক্ষোভ মিছিল পরবর্তী এ অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়।

মিছিল পরবর্তী অবরোধ কর্মসূচিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, এনসিপি, গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরাসহ শিক্ষার্থী-জনতা অংশ নেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-আন্দোলন ঝালকাঠি জেলা কমিটির আহ্বায়ক আল তৌফিক লিখন, যুগ্ম আহ্বায়ক ইয়াসিন ফেরদৌস ইফতি, সদস্য সচিব রাইয়ান বিন কামাল, জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি এনামুল হাসান, সেক্রেটারি সিদ্দিকুর রহমান, অফিস সম্পাদক মাহমুদুল হাসান বুলবুলসহ বিপুল সংখ্যক ছাত্র-জনতা।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-আন্দোলন ঝালকাঠি জেলা আহ্বায়ক আল তৌফিক লিখন বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের একজন গুরুত্বপুর্ণ সহযোদ্ধাকে দুর্বৃত্তরা গুলি করে আহত করে। সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। গুলি করা দুর্বৃত্তদের ইন্টারপুলের মাধ্যমে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। অন্যথায় আরো কঠোর কর্মসূচি পালন করা হবে।’

এ সময় ‘আওয়ামী লীগের আস্তানা, ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও’, ‘হাদি ভাই মরলো কেনো, ইন্টেরিম জবাব দে’, ‘রুখে দাও জনগণ, ভারতীয় আগ্রাসন’ স্লোগান দেন তারা।

ছাত্রশিবিরের ঝালকাঠি জেলা সভাপতি এনামুল হাসান বলেন, ‘আজকে আমাদের কথা বলার মতো অবস্থা নেই। দু’হাজার মানুষের জীবনের পর আজকেও কেনো আমাদের তাকে হারাতে হলো। এ ব্যর্থ ইন্টেরিমের কারণে আজকে হাদিকে শহীদ হতে হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘পুলিশও জানতো হাদির হত্যাকারীরা তার পাশে অবস্থান করছে। রাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সব জানতো। তাদের জানার মধ্যেই আজকে আমাদের হাদিকে শহীদ হতে হলো। আর যদি রাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা না জানে, তাহলে তাদের কেনো বেতন দেয়া হচ্ছে? আমরা সবাই হাদি হবো, যুগে যুগে লড়ে যাবো।’

রাত সাড়ে ১০টার দিকে সারাদেশের ন্যায় ঝালকাঠিতেও হাদির মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়ে। শহরের ফায়ার সার্ভিস মোড়ে অবস্থান নিতে শুরু করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-আন্দোলনের নেতারা। সে সাথে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের কর্মীরাও এতে অংশ নেন। হাদি ঝালকাঠি জেলার সন্তান হওয়ায় তীব্র শীতের রাতে ভালোবাসার টানে ছাত্রদের সাথে বিক্ষোভ করেন সাধারণ জনতাও। তারা হাদির হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে স্লোগান দেন এবং মহাসড়ক অবরোধ করেন।

এদিকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে পরিচিতি পাওয়া হাদি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। গত শুক্রবার গণসংযোগের জন্য বিজয়নগর এলাকায় গিয়ে তিনি গুলিবিদ্ধ হন। চলন্ত রিকশায় থাকা হাদিকে গুলি করেন চলন্ত মোটরসাইকেলের পেছনে বসে থাকা আততায়ী। গুলিটি লাগে হাদির মাথায়।

গুরুতর আহত হাদিকে দ্রুত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে অস্ত্রোপচার করার পর রাতেই তাকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সোমবার দুপুরে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে হাদিকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়।

ঢাকায় হাদির অস্ত্রোপচারে অংশ নেয়া নিউরো সার্জন আব্দুল আহাদ বৃহস্পতিবার রাতে এক ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতাল থেকে হাদির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।’

ইনকিলাব মঞ্চের ফেইসবুক পেইজে বলা হয়, ‘ভারতীয় আধিপত্যবাদের মোকাবিলায় মহান বিপ্লবী ওসমান হাদিকে আল্লাহ শহীদ হিসেবে কবুল করেছেন।’