বাংলাদেশকে দেয়া দীর্ঘদিনের ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা প্রত্যাহার করায় বেনাপোল স্থলবন্দর থেকে চারটি বাংলাদেশী পণ্যবাহী ট্রাক ফেরত পাঠিয়েছে ভারত।

বুধবার (৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় পণ্যবাহী ওই ট্রাকগুলো বেনাপোল থেকে ঢাকায় ফিরে আসে বলে জানা গেছে।

এর আগে মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে বাংলাদেশের পণ্য তৃতীয় দেশে যাওয়ার ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা বাতিল করে ভারত। এতে বুধবার থেকে ভুটান, নেপাল ও মিয়ানমারের সাথে বাংলাদেশের সময় ও খরচ সাশ্রয়ী বাণিজ্য করার প্রচলিত এই পথ বন্ধ হয়ে যায়।

ভারতের নিষেধাজ্ঞায় বেনাপোল বন্দর থেকে রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান ডিএসভি এয়ার অ্যান্ড সি লিমিটেডের চারটি ট্রাক ফিরে এসেছে।

ভারতের পেট্রাপোল ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়াডিং অ্যাজেন্ট স্টাফ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কার্তিক চক্রবর্তী বলেন, ‘ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা বাতিল করতে ভারতের অর্থ মন্ত্রণালয় একটি চিঠি ইস্যু করেছে কাস্টমসে। এই চিঠির আলোকেই ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধার পণ্য বেনাপোল থেকে পেট্রাপোল বন্দরে প্রবেশ বন্ধ হয়ে যায়।’

বেনাপোল বন্দরের আমদানি-রফতানিকারক সমিতির সভাপতি মহসিন মিলন জানান, ‘ভারত সরকারের এ ধরনের সিদ্ধান্ত দু’দেশের বাণিজ্য ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি করবে। আমরা আশা রাখছি, ভারত সরকার তাদের এই সিদ্ধান্ত পরিহার করে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ধরে রাখবেন।’

বেনাপোলের সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ী আব্দুল লতিফ বলেন, ‘ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা বাতিল করায় বেনাপোল থেকে চারটি রফতানি পণ্যবোঝাই ট্রাক ফেরত গেছে।’ এতে রফতানি বাণিজ্য বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।

বেনাপোল বন্দরের ডেপুটি ডিরেক্টর রাশেদুল সজিব নাজির জানান, ‘ভারত সরকার ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা বাতিল করায় পেট্রাপোল কাস্টমস থার্ডকান্ট্রির পণ্যে কার্পাস ইস্যু করেনি। এতে ওই সব পণ্যবাহী ট্রাক ভারতে ঢুকতে পারছে না। তবে ভারতের অভ্যন্তরে রফতানির উদ্দেশ্যে আসা অন্য পণ্যের রফতানি বাণিজ্য স্বাভাবিক রয়েছে।’ সূত্র : ইউএনবি