আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো: আসাদুজ্জামান বলেছেন, ‘সুশাসনের পথে যেকোনো অন্তরায় দূর করা হবে। যেকোনো রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স অবস্থায় রয়েছে। অপরাধ দমনে বেআইনিভাবে নয়, আইনসঙ্গতভাবেই এগোতে চাই। কেউ মহাঅপরাধী হলেও তাকে বেআইনিভাবে খুন হতে দেয়া যাবে না। সন্ত্রাস দমনে আইনসঙ্গতভাবে অগ্রসর হতে হবে।’

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) খুলনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘শুধুমাত্র বিএনপি করার অপরাধে বিগত ১৭ বছরে বিএনপির ৬০ লাখের বেশি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা গায়েবি মামলা করা হয়েছিল। সেই সমস্ত মামলার প্রায় ৯৯ শতাংশ ভিত্তিহীন ও ভুয়া। একইভাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় গুলি করে হত্যা করা হয়েছে ১৪ শত মানুষকে। ৩০ হাজার মানুষকে পঙ্গুত্ব বরণ করতে হয়েছে এবং যারা এসব করেছিলেন, তাদের অনেকেই এখনো এই চাকরিতে বহাল আছেন।’

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘ক্রসফায়ার যেহেতু আইনি কাঠামোর মধ্যে পড়ে না। ওই পথে আমরা যাব না। সন্ত্রাস দমনের জন্য ক্রসফায়ার করতে হবে, নট নেসেসারি। সন্ত্রাস দমনের জন্য আমাদের যে আইন আছে, সেটাই যথেষ্ট। সে আইনকে যদি সংশোধন করে কোনো কঠিন প্রক্রিয়া আনতে হয়, আমরা সেটাও করব। বাট বেআইনি পথে আমরা হাঁটব না।’

খুলনার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে পরিকল্পনা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

রূপসা ঘাটের অনিয়মের প্রসঙ্গ তুলে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘নদী পার হওয়ার পর মানুষের ব্যাগ পারাপারের জন্যও আলাদা চার্জ নেয়া হচ্ছে। বিষয়টি জানতে পেরে তিনি জেলা প্রশাসককে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। সম্ভব হলে পরদিন থেকেই সেখানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।’

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘রূপসা ঘাটে পাঁচ-দশজন ব্যক্তির লাভবান হওয়ার জন্য পুরো দলের বদনাম সরকার মেনে নেবে না।’

মাদক নিয়ন্ত্রণে ডোপ টেস্ট চালুর অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘শৈলকূপা ও ঝিনাইদহে এ পদ্ধতি কার্যকরভাবে কাজ করছে। মাদকাসক্ত বা মাদকের সাথে সংশ্লিষ্ট সন্দেহে আটক ব্যক্তির ঘটনাস্থলেই পরীক্ষা করা হচ্ছে। পজিটিভ হলে বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে সামারি ট্রায়ালের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’

সভায় জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল এমপি, আজিজুল বারি হেলাল এমপি, আমির এজাজ খান এমপি, সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, খুলনা ওয়াসার চেয়ারম্যান মো: মনিরুজ্জামান মনি, কেডিএ’র চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল আলম মনা, জেলা পরিষদ প্রশাসক মনিরুল হাসান বাপ্পি, রেঞ্জ ডিআইজি মো: মোস্তাফিজুর রহমান, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো: সাজ্জাদুর রহমান, জেলা পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুক, মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান, খেলাফত মজলিসের মহানগর সভাপতি এফ এম হারুনার রশিদ, ইসলামী আন্দোলনের শেখ মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, এনসপির সংগঠক আহমদ হামিম রাহাত, সাইফ নেওয়াজ প্রমুখ সভায় উপস্থিত ছিলেন।