রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এনজিও পরিচালিত স্কুল থেকে স্থানীয় শিক্ষকদের ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কে টানা সাত ঘণ্টাব্যাপী সড়ক অবরোধ করেছেন চাকরিচ্যুতরা। এতে করে সড়কে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট, আটকে পড়ে অ্যাম্বুলেন্সসহ শত শত যানবাহন। দুর্ভোগে পড়েন হাজারো যাত্রী ও পথচারী।
মঙ্গলবার (৩ জুন) সকাল ৭টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত উখিয়ার কোটবাজার এবং টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের উনচিপ্রাং এলাকায় অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করেন ক্ষুব্ধ শিক্ষকরা।
তারা অভিযোগ করেন, ব্র্যাক, কোডেক, ফ্রেন্ডশিপ, মুক্তি এবং ধারা নামের এনজিও সংস্থাগুলোর পরিচালিত শিক্ষা কার্যক্রমে কর্মরত অবস্থান থেকে রোহিঙ্গা শিক্ষকদের রেখে স্থানীয় প্রায় ১,২৫০ জন শিক্ষককে আকস্মিকভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।
আন্দোলনরত শিক্ষক মোহাম্মদ শামীম বলেন, ‘দীর্ঘ দিন ধরে আমরা রোহিঙ্গা শিশুদের শিক্ষাদানে নিয়োজিত ছিলাম। অথচ এখন আমাদের ছাঁটাই করে রোহিঙ্গা শিক্ষকদের কাজে রাখা হচ্ছে। বহুবার অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার পাইনি। তাই বাধ্য হয়েই রাজপথে নামতে হয়েছে।’
উনচিপ্রাং এলাকার আন্দোলনকারী শিক্ষক মোহাম্মদ করিম বলেন, ‘আমরা অনেক বছর ধরে মানবিক মূল্যবোধ থেকে রোহিঙ্গা শিশুদের পড়িয়েছি। এখন অর্থ সঙ্কটের অজুহাতে আমাদের চাকরি কেড়ে নেয়া হয়েছে। অথচ এনজিওগুলো বিদেশী তহবিল নিয়েই কাজ করছে।’
কোটবাজার এলাকার আন্দোলনকারী শিক্ষক বোরহান উদ্দিন বলেন, ‘শরণার্থী কমিশন এবং সংশ্লিষ্ট এনজিওগুলোর কাছে বারবার আবেদন জানিয়েও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এখন তারা বলছে, বাজেট নেই-এটা আমাদের সাথে প্রতারণা। সকাল থেকে শুরু হওয়া এ সড়ক অবরোধের কারণে মহাসড়কের উভয় প্রান্তে কয়েক কিলোমিটার জুড়ে যানজট সৃষ্টি হয়। তীব্র গরমে অ্যাম্বুলেন্স, শিশু ও বৃদ্ধ যাত্রীদের নিয়েও দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়।’
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে যান উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম চৌধুরীসহ পুলিশ ও সেনাবাহিনী।
এছাড়া স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারাও পরিস্থিতি শান্ত করতে এগিয়ে আসেন। উখিয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সরওয়ার জাহান চৌধুরী, সদস্য সচিব সোলতান মাহমুদ চৌধুরী, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা আবুল ফজল ও সাধারণ সম্পাদক সোলতান আহমেদ আন্দোলনরত শিক্ষকদের পাশে দাঁড়িয়ে একাত্মতা প্রকাশ করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আশ্বাস দেন।
উপজেলা প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতাদের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে দুপুর ২টায় আন্দোলনকারীরা আজকের মতো সড়ক অবরোধ স্থগিত করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘স্থানীয় শিক্ষকরা যে অভিযোগ করছেন তা আমরা গুরুত্ব সহকারে দেখছি। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট এনজিওদের জানানো হয়েছে। সমাধানের চেষ্টা চলছে। এদিকে এনজিওগুলোর পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।’
এ বিষয়ে রোহিঙ্গা শিবিরে কাজ করা সংশ্লিষ্ট দাতাগোষ্ঠী ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তারা বলেন, ‘স্থানীয়দের বাদ দিয়ে রোহিঙ্গাদের অগ্রাধিকার দেয়া হলে তা স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বাড়িয়ে তুলবে, যা ভবিষ্যতে বড় সঙ্কট তৈরি করতে পারে। সংশ্লিষ্টদের দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।’








