বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেডের সহকারী ব্যবস্থাপক মো: মনজিল হাসানের বিরুদ্ধে শ্রমিক-কর্মচারীদের সাথে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের অভিযোগ উঠেছে। নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) শাখার সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ কর্মকর্তা কোম্পানিকে ধ্বংস করার মাধ্যমে পতিত আওয়ামী সরকারের অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়নের অপচেষ্টায় লিপ্ত বলে শ্রমিক-কর্মচারীদের অভিযোগ।

বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) পক্ষ থেকে এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিরাসারস্থ প্রধান কার্যালয়ে বিজিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগের সাথে সহকারী ব্যবস্থাপক মো: মনজিল হাসানের ছাত্রলীগের কমিটিতে থাকার বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণাদিও যুক্ত করে দেয়া হয়েছে।

শরিবার (১৯ এপ্রিল) সিবিএ’র সভাপতি মো: নূর আলম ও সাধারণ সম্পাদক আলী হায়দার আহমদ বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন।

বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি মো: নূর আলম ও সাধারণ সম্পাদক আলী হায়দার আহমদ স্বাক্ষরিত ওই লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, সহকারী ব্যবস্থাপক মো: মনজিল হাসান কম্প্রেসর অ্যান্ড জেনারেটর ডিভিশনের কম্প্রেসর মেকানিক্যাল মেইনটেন্যান্স শাখায় কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীদের সাথে দীর্ঘদিন ধরে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করে আসছেন। এই শাখার শ্রমিক-কর্মচারীরা তাকে খারাপ আচরণ না করার জন্য অনুরোধ করলেও তিনি কর্ণপাত করছেন না। তার মানসিক অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে কর্মরত কর্মচারীরা সিবিএ’র দ্বারস্থ হয়। সিবিএ নেতৃবৃন্দ ওই ডিপার্টমেন্টের উপ-মহাব্যবস্থাপকের সাথে দেখা করতে গিয়ে সহাকারী ব্যবস্থাপক মো: মনজিল হাসানের সাথে সাক্ষাৎ হয়। তখন শ্রমিক নিপীড়নের বিষয়ে জানতে চাইলে সে সিবিএ নেতৃবৃন্দের সাথেও খারাপ ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন এবং এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন নিয়ে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যের সাথে গালি-গালাজ করেন। এ সময় সিবিএ নেতৃবৃন্দের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমি আমার ডিপার্টমেন্ট নিজের মতো করে চালাবো, কারো কাছে কোনোরূপ কৈফিয়ত দেব না। কারো বাবার সাধ্য নেই আমার কোনো প্রকার কাজের জবাব চাওয়ার।’

বিগত ২০২০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি আল নাহিয়ান জয় এবং সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যের স্বাক্ষরিত একপত্রে বিতর্কিত কর্মকর্তা মো: মনজিল হাসাকে চুয়েট শাখার ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয় এবং তিনি দীর্ঘদিন এ পদে বহাল ছিলেন।

সিবিএ নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতেই তিনি ওই বিভাগের কর্মচারীদের অশালীন ভাষায় শাসাতে থাকেন এবং চিৎকার করে বলেন, ‘আমি ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলাম, ‘সিবিএ গুনার টাইম আমার নাই, সব শালাকে দেখে নেব।’ এসময় উপমহাব্যবস্থাপক (কম্প্রেসর অপারেশন)-তিতাস উপস্থিত হয়ে এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে গেলে সে ওই কর্মকর্তাকে ধাক্কিয়ে রুম থেকে বের করতে করতে বলেন- ‘এখানে কিছু হয়নি, আপনি চলে যান, আমি এই বিষয়টি শেষ করব।’

অভিযোগে আরো বলা হয়, বিগত ২০২০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি আল নাহিয়ান জয় এবং সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যের স্বাক্ষরিত একপত্রে বিতর্কিত কর্মকর্তা মো: মনজিল হাসাকে চুয়েট শাখার ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয় এবং তিনি দীর্ঘদিন এ পদে বহাল ছিলেন। এখনো আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের অনেক নেতাকর্মীর সাথে তার সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রয়েছে। তিনি সর্বদাই গ্যাসফিল্ড তথা দেশের স্বাভাবিক পরিস্থিতিকে অস্বাভাবিক করে তোলার জন্য ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে তিনি রহস্যজনক কারণে বিগত ২০২৪ সালের ১ আগস্ট থেকে ৩ আগস্ট পর্যন্ত ছুটি নিয়ে ঢাকায় অবস্থান করে গণহত্যায় অংশগ্রহণ করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মো: মনজিল হাসান জানান, তার বিরুদ্ধে আনীত অসদাচরণ করাসহ অন্যান্য অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

তবে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘ছাত্রলীগের কমিটি থেকে অবসর নিতে আমি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলাম।’ পদত্যাগপত্রটি আছে কি-না জানতে চাইলে তিনি খুঁজে বের করে দেখবেন বলে জানান।

এ ব্যাপারে কথা বলতে বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক হোসাইনের মোবাইল নম্বরে একাধিক বার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।