নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে পাঁচজন টেঁটা বিদ্ধসহ প্রায় ২০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার খাগকান্দা ইউনিয়নের বাহেরচর এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়েছে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বাহেরচর ও কাকাইলমোড়া গ্রামবাসীর মধ্যে মামলা মোকদ্দমা, গ্রাম্য দলাদলি নিয়ে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। ওই দ্বন্দ্বের সূত্র ধরে গত শুক্রবার বিকেলে বিএনপি ইউনিয়ন সভাপতি বেলায়েত হোসেন এবং সেক্রেটারি জাকারিয়ার লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ ও হাতাহাতি হয়। এ নিয়ে গত তিনদিন ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছিল।

ঘটনার সময় খাগকান্দা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বেলায়েত হোসেনের অনুসারী কাকাইলমোড়া এলাকার ইদ্রিস আলী এবং সাধারণ সম্পাদক বাহেরচর এলাকার জাকারিয়ার লোকজন টেঁটা বল্লম, লাঠিসোটা এবং অন্যান্য দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। ফলে এ ঘটনায় পাঁচজন টেঁটাবিদ্ধসহ প্রায় ২০ জন রক্তাক্ত আহত হয়। আহতদের মধ্যে আটজনকে গুরুতর অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকীদেরকে আড়াইহাজার ও সোনারগাঁয়ের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা ও চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় জাকারিয়ার পক্ষ নেন ওলামা লীগের ইউনিয়ন সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন এবং ইদ্রিস আলীর পক্ষ নেন ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুর হোসেন।

টেঁটাবিদ্ধরা হচ্ছেন- মকবুল, মঞ্জুর, জসিমসহ পাঁচজন। আহত অন্যরা হচ্ছেন- ফরহাদ, মনির, ফজি, শামীম, সাইদুল, সোহাগ, ডালিম, রনি, মীম প্রমুখ।

ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া জানান, ইদ্রিস আলী আওয়ামী লীগের লোক নিয়ে আমাদের ওপর হামলা করলে আমরা প্রতিহত করি।

অপরদিকে ইদ্রিস আলী জানান, জাকারিয়া আওয়ামী লীগের লোকজন নিয়ে আমাদের ওপর হামলা করে। তিনি তার পক্ষের লোকজনের ১০টি বাড়িঘর ভাংচুর করা হয়েছে বলে জানান।

আড়াইহাজার থানার ওসি খন্দকার নাসিরউদ্দিন জানান, দুই গ্রামবাসির মধ্যে সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে পুলিশ।