গাজীপুরে চোর সন্দেহে পিটিয়ে পোশাক কারখানার শ্রমিক হৃদয় হত্যার মূল আসামি বেল্লাল হোসেন বেলালকে(৪৩) গ্রেফতার করেছে র্যাব-১ গাজীপুর পোড়াবাড়ী ক্যাম্পের সদস্যরা।
মঙ্গলবার (১ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর বাসন থানাধীন চান্দনা চৌরাস্তা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
এর আগে এই মামলার অপর আসামি শফিকুল ইসলামকে(৩০) সোমবার দিবাগত রাতে কোনাবাড়ীর সেলিমনগর এলাকা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এ নিয়ে মেকানিক্যাল মিস্ত্রী হৃদয় হত্যার ঘটনায় মোট তিন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতাররা সকলেই ওই কারখানার নিরাপত্তার্মী।
গ্রেফতার শফিকুল ইসলাম(৩০) রাজশাহীর বাগমারা এলাকার হাটমাদনগর গ্রামের মরহুম রফিকুল ইসলামের ছেলে এবং বেল্লাল হোসেন বেলাল সিরাজগঞ্জ জেলার কাজীপুর উপজেলার পাটাগ্রাম(পূর্ব বেদগাড়ী) গ্রামের লোকমান হোসেনের ছেলে।
প্রসঙ্গত, শনিবার (২৮ জুন) ভোরে কোনাবাড়ীর গ্রীণল্যান্ড গার্মেন্টস লিমিটেড কারখানায় হৃদয়কে রশি দিয়ে বেঁধে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া যায়। মারধর করে হত্যার একটি ভিডিও রোববার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে কর্তৃপক্ষ কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে।
নিহত হৃদয় টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল উপজেলার শুকতার বাইদ গ্রামের আবুল কালামের ছেলে। সে গ্রীণল্যান্ড কারখানায় ডাইং সেকশনের মেকানিক্যাল মিস্ত্রী হিসেবে অস্থায়ীভাবে কাজ করতো। গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ী থানাধীন হারিনাবাড়ী (এসরারনগর হাউজিং) এলাকায় মিরাজের বাড়ীতে ভাড়ায় থেকে মা ও বোনসহ বসবাস করতেন।
র্যাব কর্মকর্তা পুলিশ সুপার (এসপি) কে এম এ মামুন খান চিশতী জানান, শুক্রবার (২৭ জুন) রাত ৮টা থেকে শনিবার (২৮ জুন) বিকাল সাড়ে ৪টার মধ্যবর্তী যে কোনো সময় গ্রিনল্যান্ড গার্মেন্টস লিমিটেড কারখানার ভিতরে আসামি বেল্লাল হোসেন বেলাল অজ্ঞাতনামা আসামিদেরকে নিয়ে একই কারখানার মেকানিক্যাল মিস্ত্রী হৃদয়কে চোর সন্দেহে হাত-পা রশি দিয়ে বেঁধে সারারাত মারপিট করে হত্যা করে। মৃত্যুর রহস্য গোপন রাখার উদ্দেশ্যে ভিকটিমের পরিবারকে না জানিয়ে লাশ গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। খবর পেয়ে কোনাবাড়ী থানা পুলিশ ওই হাসপাতালে গিয়ে লাশের সুরতহাল করে। মেকানিক্যাল মিস্ত্রী হৃদয়কে সারারাত নির্যাতনের পর মৃত্যু ঘটনায় গ্রিনল্যান্ড গার্মেন্টস লিমিটেড কারখানার অন্যান্য শ্রমিকেরা কোনাবাড়ী এলাকার টাঙ্গাইল-গাজীপুরগামী মহাসড়ক অবরোধ করে হত্যাকারীকে গ্রেফতার এবং রহস্য উদঘাটন করে শাস্তির দাবিতে আন্দোলন করেন। বর্তমানে গ্রিনল্যান্ড গার্মেন্টস লিমিটেড কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
তিনি আরো বলেন, ‘হত্যার ঘটনায় ভিকটিমের বড় ভাই লিটন মিয়া(৩৬) শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে কোনাবাড়ী থানায় অজ্ঞাতদের আসামি করে হত্যা মামলা করে। বিষয়টি আমলে নিয়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িত আসামিদেরকে গ্রেফতার করতে র্যাব-১ গাজীপুর (পোড়াবাড়ী ক্যাম্প) ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করে। পরে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানতে পারে মামলার তদন্তে প্রাপ্ত আসামি বেল্লাল হোসেন বেলাল গাজীপুর মহানগরীর বাসন থানাধীন চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় আত্মগোপনে আছে। কোনাবাড়ী থানা পুলিশের সহায়তায় চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে আসামি বেল্লাল হোসেন বেলালকে মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গ্রেফতার করা হয়। র্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার আসামি বেল্লাল হোসেন বেলাল মেকানিক্যাল মিস্ত্রী হৃদয়কে হত্যার ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। পরে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রেফতারকৃত আসামিকে কোনাবাড়ী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপির) কোনাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাহ উদ্দিন জানান, গ্রেফতার আসামি বেল্লাল হোসেন বেলাল কোনাবাড়ী থানায় আছে। বুধবার (২ জুলাই) তাকে আদালতে পাঠানো হবে। পোশাক কারখানার মেকানিক্যাল মিস্ত্রী হৃদয় হত্যার ঘটনায় এ পর্যন্ত মূলহোতাসহ মোট তিনজন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একই মামলার অপর আসামি শফিকুল ইসলামকে কোনাবাড়ী থানাধীন হরিনাচালা (সেলিম নগর) এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। সোমবার মধ্য রাতে ওই এলাকার একটি বাসা থেকে শফিকুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ভিডিও ফুটেজ দেখে তার জড়িত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর হয়েছে।








