সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) সংবাদদাতা
মানিকগঞ্জের সিংগাইর প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, দৈনিক ভোরের কাগজ প্রতিনিধি ও দৈনিক ফুলকির স্টাফ রিপোর্টার মাসুম বাদশার ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ এপ্রিল) দুপুরে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জেওএম তৌফিক আজম।
মামলার আসামিরা হলেন- উপজেলার ধল্লা মধ্যপাড়া গ্রামের মরহুম নিজাম উদ্দিনের ছেলে আব্দুস ছালাম ওরফে ছালাম নেতা (৫৩), ধল্লা লক্ষীপুর গ্রামের মরহুম গিয়াস উদ্দিন গাদুর ছেলে হুমায়ুন (৪০), তুফান আলীর ছেলে আনোয়ার হোসেন (৪০), কাউছারের ছেলে জিসান (২২) ও জোনাব আলীর ছেলে ওয়াজ উদ্দিনসহ (৪৫)।
এর আগে বুধবার রাতে পাঁচজনের নাম উল্লেখসহ ৮-১০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে আহত সাংবাদিক মাসুম মামলাটি করেছেন।
মামলার এজাহারে প্রকাশ ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল পৌনে ১০ টার দিকে উপজেলার ইউনিয়ন কাউন্সিল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠের পশ্চিম পাশে তার ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠান ধল্লা পল্লী উন্নয়ন ও সমাজ কল্যাণ সংস্থার অফিসে যায়। এ সময় উল্লেখিত সন্ত্রাসীরা ধল্লা মধ্যপাড়া গ্রামের মরহুম নিজাম উদ্দিনের ছেলে আব্দুস ছালাম ওরফে ছালাম নেতার হুকুমে মাসুম বাদশাহর অফিসে ঢুকে তাকে এলোপাথাড়ী মারধর করতে থাকে। এ সময় হুমায়ুন তার হাতে থাকা রড দিয়ে আঘাত করে তার বাম হাত ভেঙে ফেলে। আনোয়ার দা দিয়ে মাথা লক্ষ্য করে কোপ দিলে তার ডান হাতের কব্জিতে লেগে ক্ষত তৈরি হয় । ছালামের হাতে থাকা ধারালো দা দিয়ে পিঠে কোপ দিয়ে রক্তাক্ত ও গুরুতর জখম করে। এছাড়া সন্ত্রাসীরা সাংবাদিকের ব্যবহৃত ১৩৫ সিসি ডিসকভার মোটরসাইকেলটি ভাঙচুর করে ৩৫ হাজার টাকা ক্ষতি সাধন করে এবং তার হাতে থাকা সিকো ফাইভ ব্র্যান্ডের ঘড়িটিও ছিনিয়ে নেয়। হামলার শিকার সাংবাদিক মাসুম বাদশাহর ডাক- চিৎকারে অফিস ও আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
চিকিৎসাধীন সাংবাদিক মাসুম বাদশাহ বলেন, ‘হামলাকারীরা এলাকায় চিহ্নিত সন্ত্রাসী এবং মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। ইতিপূর্বে মামলার ২ নম্বর আসামি হুমায়ুনের ভাই ও বোনের অনিয়ম- দুর্নীতির সংবাদ দৈনিক ভোরের কাগজ ও দৈনিক ফুলকি পত্রিকায় একাধিকবার প্রকাশিত হয়েছে। এরই জের ধরে তারা হামলা ও হত্যার পরিকল্পনা করে। গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর হামলাকারীরা খোলস পাল্টে বিএনপির রাজনীতিতে যোগ দিয়ে অপরাধমূলক কর্মকান্ডের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। সংবাদ প্রকাশের জেরে আমাকে তারা হত্যার জন্য হামলা চালায়। বর্তমানে তিনি আসামিদের ভয়ে নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন বলেও জানান।
ইতিমধ্যেই সাংবাদিক মাসুম বাদশাহর ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় সিংগাইর প্রেসক্লাবে এক জরুরি সভায় নিন্দা প্রস্তাবে জড়িতদের শাস্তি দাবি করা হয়। এ ছাড়া সিংগাইর ও মানিকগঞ্জের সাংবাদিক সমাজসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে দোষীদের কঠিন শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছেন।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত জড়িত কেউ গ্রেফতার হয়নি।
এ ব্যাপার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই পার্থ শেখর ঘোষ বলেন, ‘মামলা হয়েছে আসামিদের গ্রেফতারে জোর চেষ্টা অব্যাহত আছে।’





