রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ও ছোটভাকলা ইউনিয়নের পদ্মা নদী থেকে গত দুইদিনে দু’টি লাশ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। এ নিয়ে জনমনে আতংক বিরাজ করছে।
রোববার (২৭ এপ্রিল) সকালে জাহিদ সরদার নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়। এর আগে শুক্রবার (২৫ এপ্রিল) আল আমিন নামে এক প্রবাসী যুবকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
এদিকে পুলিশ বলছে, ‘ভয়ের কোনো কারণ নাই। ঘটনার পর থেকেই সন্ত্রাসীদের খুঁজে বের করে গ্রেফতারের প্রচেষ্টা অব্যহত রেখেছে প্রশাসন। তবে ঘটনা পদ্মার দূর্গম চরাঞ্চলের পাবনা ও রাজবাড়ীর মধ্যে ঘটায় ওই সন্ত্রাসীদের খুঁজতে সময় লাগছে। এলাকায় পুলিশী টহল জোরদার করা হয়েছ।’
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার ছোটভাকলা ইউনিয়নের চর বরাট গ্রামের জিহাদ সরদার (৩০) নিখোঁজের তিনদিন পর আজ রোববার বরাট অন্তার মোড় এলাকায় পদ্মা নদী থেকে জিহাদের মাথাবিহীন অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিহত জিহাদ সরদার চরবরাট গ্রামের শহীদ সরদারের ছেলে। জিহাদ ঢাকা-নারায়ণগঞ্জে ডকইয়ার্ডে কাজ করতেন। পরিবারে তারা দুই ভাই ও দুই বোন ছিলেন।
জানা যায়, উপজেলার ছোট ভাকলা ইউনিয়নের অন্তার মোড়ের চরবরাট এলাকায় পদ্মা নদীর কিনারে রোববার সকালে স্থানীয় লোকজন মাথাবিহীন একটি লাশ পানিতে ভাসতে দেখে গোয়ালন্দ ঘাট থানাকে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে লাশ উদ্ধার করে। এ সময় নদীতে তার মাথাটি কোথায় আছে সেটি খুঁজছে স্থানীয় এলাকাবাসী ও পুলিশ।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলাম জানান, অন্তার মোড়ে এলাকায় পানিতে ভাসছে মাথাবিহীন একটি লাশ এমন খবর পেয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানার পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
তিনি আরো জানান, লাশটি জিহাদের কিনা তা শনাক্তকরণের কাজ চলছে এবং এ ঘটনায় কারা জড়িত তাদের আইনের আওতায় আনতে মাঠে পুলিশ কাজ করছে।
জিহাদের ছোট বোন সামান্তা আক্তার বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে ঢাকা থেকে বাড়ি আসে জিহাদ। বিকেলে জিহাদ তার ব্যক্তিগত কাজে বাইরে গেলে রাত বেশি হলে বাড়ি না আসায় তাকে ফোন দিলে জিহাদ বলে আমি কিছুক্ষণ পর আসছি। পরে বৃহস্পতিবার রাত ১২টা পার হয়ে গেলেও জিহাদ বাড়ি না ফিরলে তারা তাকে ফোন করলে তার ফোনটি বন্ধ পায়। পরদিন দুপুরে গোয়ালন্দ ঘাট থানার পরিবারের পক্ষ থেকে একটি নিখোঁজ জিডি করা হয়। অনেক খোঁজাখুঁজির পর জিহাদকে না পাওয়া গেলে রোববার সকালে অন্তার মোড় এলাকার পানিতে মাথা ছাড়া আমার ভাইকে অর্ধগলিত অবস্থায় ভাসমান থাকতে দেখা যায়। পরে আমার মা গিয়ে ভাইয়ের পরনে থাকা প্যান্ট দেখে শনাক্ত করেন।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমার ভাইয়ের তো কোনো শত্রু ছিল না। কারা আমার ভাইকে এভাবে মারলো জানি না। আমরা অভিযুক্তদের ফাঁসি চাই।’
এর আগে গত শুক্রবার রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার রাখালগাছি গ্রামে বিয়ের কনে দেখতে এসে চরমপন্থী সন্ত্রসীদের উপর্যুপরি কোপ খেয়ে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে নিখোঁজ হয় আলআমিন (২৫) নামের এক মালয়েশিয়া প্রবাসী।
শুক্রবার (২৫ এপ্রিল) দুপুর আড়াইটার দিকে গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের রাখালগাছি সিঅ্যান্ডবি রাস্তার মাথায় এ ঘটনা ঘটে।
এর একদিন পর গত শনিবার আল আমিনের (২৩) লাশ উদ্ধার করেছে গোয়ালন্দ ঘাট থানা, কাজিরহাট নৌ-পুলিশ।
নিহত আল আমিন পাবনা জেলার আমিনপুর থানার ঢালারচর ইউনিয়নের রামনারায়নপুর গ্রামের আবু বক্কর মন্ডলের ছেলে। শনিবার দুপুরে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করেছে।








