রংপুর ধর্ম সভায় আসন্ন রথযাত্রা নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সাব-রেজিস্ট্রার রাম জীবন কুন্ডুর উপস্থিতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া। এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমের ফেসবুকে দেয়া একটি পোস্টে রাম জীবন কুন্ডুর নামে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে একাধিক হত্যা মামলাসহ বিভিন্ন মামলা থাকা এবং তার বিরুদ্ধে ‘র’-এর অ্যাজেন্টের অভিযোগ তুলেছেন।

বুধবার দিবাগত রাতে রাম জীবন কুন্ডুকে লাল চিহ্নিত করে ওই বৈঠকের একটি ছবি ফেসবুকে পোস্ট করেন সারজিস আলম।

সারজিস আলম ফেসবুকে লেখেন, ‘সেনাবাহিনী কারো সম্পর্কে না জেনে এভাবে পাশে বসিয়ে প্রেস ব্রিফিং করবে এটা সম্ভব নয়। তারপরও কিভাবে এটা হলো সেই প্রশ্নের উত্তর সেনাবাহিনীর দেয়া উচিত। গোল চিহ্নিত যে লোকটি বসে আছে তার পরিচয়ের কিছু অংশ তুলে ধরছি। নাম রাম জীবন কুন্ডু। আওয়ামী লীগ সরকার আমলের সংসদ-সদস্য ও পানিসম্পদ মন্ত্রী রমেশ সেনের ভাগ্নি জামাতা বলে পরিচয় দিতেন। সরকারি কর্মচারী হয়েও রংপুর পূজা উদযাপন পরিষদের নেতা হন এবং নেতা হওয়ায় ক্ষমতার দাপটে তিনি বেপরোয়া হয়ে ওঠেন, আওয়ামী লীগের সকল বড় প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করতেন।’

তিনি অভিযোগ করেন, ‘রংপুর সদরের সাব-রেজিস্ট্রার থাকা অবস্থায় (রাম জীবন) জাল দলিলের কারসাজিতে হাতিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। রংপুর সদর সাব-রেজিস্টার থাকার আগে একই কাজ নীলফামারি জেলায় করে খেয়েছিলেন মামলা। নিয়োগ বানিজ্য করে মোটা অঙ্কের টাকা নিতেন। আওয়ামী লীগের এমপি মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন।’

সারজিস আলম উল্লেখ করেন, ‘৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে রংপুর সদর থেকে পানিশমেন্ট পোস্টিং হিসেবে পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলায় পোস্টিং হয়। পরবর্তীতে কয়েক মাস না যেতেই কোনো এক অদৃশ্য ক্ষমতায় আবারো রংপুরের পীরগাছা উপজেলায় নিজেকে ট্রান্সফার করিয়ে নেন।’

তার বিরুদ্ধে ‘র’-এর অ্যাজেন্ট অভিযোগ তুলে সারজিস লেখেন, ‘আওয়ামী লীগ আমলের অন্যতম বাটপার এই লোক নিজেই জানাতেন সে র-এর বড় মাপের লোক। রেঞ্জ ডিআইজিও তার সিগন্যাল পাওয়ার পরে কাজ করতেন। ভারতে আছে তার দু’টি বাড়ি। কলকাতার এমএলএদের সাথে আছে তার প্রতিনিয়ত যোগাযোগ।’

পোস্টে তিনি একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনও উল্লেখ করেন। তাতে দেখা যায়, রূপকথাকেও হার মানানো এক বাস্তব চরিত্র রাম জীবন কুন্ডু। মাত্র ৬ বছর বয়সে তিনি পেয়েছেন মুক্তিযোদ্ধার (মুজিবনগর কর্মচারী) সনদে। ওই সনদে তিনি চাকরি করছেন দীর্ঘদিন ধরে। তার জন্মসনদ অনুযায়ী মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি ছিলেন ৬ বছরের শিশু। প্রকৃতপক্ষে ‘মুজিবনগর কর্মচারীর’ জাল সনদ দিয়ে এখন পর্যন্ত সাব-রেজিস্ট্রার পদে চাকরি করে যাচ্ছেন। এবং বছরের পর বছর ধরে ঘুষ, জালিয়াতি আর রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে গড়ে তোলেন বিপুল সম্পদের পাহাড়।