‘মাদককে না বলুন, সুস্থ-সুন্দর জীবন গড়ুন’, ‘সুস্থ দেহ, সুন্দর মন’ এবং ‘মাদকমুক্ত হোক প্রতিটি জীবন’—এমন নানা স্লোগানকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় জে আর মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে সুস্থতার বর্ষপূর্তি, কোর্স সমাপনী সনদ বিতরণ ও সম্মাননা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ফতুল্লার শিবু মার্কেট এলাকায় অবস্থিত জে আর মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে মাদকাসক্তি থেকে চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের মাধ্যমে সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা ১৫ তরুণের সাফল্য উদযাপন করা হয়। একই সাথে তাদের নতুন জীবনের পথচলায় উৎসাহিত করতে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে কোর্স সমাপনী বা গ্র্যাজুয়েশন সনদ ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।
জে আর মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের চেয়ারম্যান মো: মনির হোসেন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ফারুক আহমেদ কচি। প্রোগ্রামার সাব্বির হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রটির জ্যেষ্ঠ পরিচালক অর্ণব আহমেদ।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন ব্যবসায়ী জে আর কেমিক্যালের চেয়ারম্যান মো: সেলিম হোসেন এবং জে আর ইমপ্যাক্সের পরিচালক মো: আসিফুল হোসাইন রাব্বি।
অনুষ্ঠানের শুরুতে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা ব্যক্তিদের সংগ্রাম, সাফল্য ও পুনর্বাসনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। পরে অতিথিরা তাদের হাতে কোর্স সমাপনী সনদ ও সম্মাননা স্মারক তুলে দেন। এ সময় তাদের নতুন জীবনের পথচলায় শুভকামনা জানান অতিথিরা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো: মনির হোসেন বলেন, ‘মাদকাসক্তি একজন মানুষের জীবন, পরিবার ও সামাজিক সম্পর্ককে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তবে সঠিক চিকিৎসা, নিয়ম-শৃঙ্খলা, পরিবারের সহযোগিতা এবং নিজের দৃঢ় ইচ্ছাশক্তির মাধ্যমে একজন মানুষ মাদকাসক্তি থেকে সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারেন।’
তিনি চিকিৎসাধীন ব্যক্তিদের হতাশ না হয়ে ধৈর্য ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ‘অতীতের ভুল একজন মানুষের পুরো জীবনকে নির্ধারণ করে না। মাদক ছেড়ে সুস্থ জীবনে ফিরে আসার সিদ্ধান্তই হতে পারে নতুন জীবনের প্রথম পদক্ষেপ।’
চিকিৎসা শেষে যারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছেন, তাদের নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার পাশাপাশি অন্যদেরও মাদক থেকে দূরে থাকার বিষয়ে উৎসাহিত করার আহ্বান জানান তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে ফারুক আহমেদ কচি বলেন, ‘একজন মানুষ মাদকাসক্তি থেকে সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা শুধু তার ব্যক্তিগত অর্জন নয়; এটি তার পরিবার ও সমাজের জন্যও বড় একটি সাফল্য।’
রিকভারি সম্পন্ন ব্যক্তিদের নতুন জীবন ধরে রাখতে পরিবারের ভালোবাসা, সহযোগিতা ও ইতিবাচক পরিবেশ অত্যন্ত প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অর্ণব আহমেদ বলেন, ‘মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসার পাশাপাশি তাদের মানসিকভাবে শক্ত করে তোলা এবং সমাজে পুনর্বাসন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
তিনি বলেন, ‘একজন মানুষ যখন মাদককে পরাজিত করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসেন, তখন শুধু ওই ব্যক্তি নন, তার পরিবারও নতুন আশার আলো দেখতে পায়।’
মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের অবহেলা বা ঘৃণা না করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, মানসিক সহায়তা ও পারিবারিক সহযোগিতা দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।








