সিলেটের বিয়ানীবাজার পল্লীতে তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে ভাতিজাদের পিটুনিতে প্রাণ হারালেন চাচা।

রোববার (২৭ এপ্রিল) ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

নিহত চাচা একরাম আলী মুড়িয়া ইউনিয়নের তাজপুর গ্রামের মরহুম বশারত আলীর ছেলে।

গত শনিবার দিবাগত রাত ৮ টার দিকে উপজেলার মুড়িয়া ইউনিয়নের তাজপুর এলাকায় সংঘর্ষে আহত বৃদ্ধকে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার ভোরে তিনি মারা যান।

খবর পেয়ে বিয়ানীবাজার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পরিদর্শন এবং স্থানীয়দের কাছে থেকে ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করেছে এবং এসময় স্থানীয়রা একজনকে আটক করে পুলিশে হস্তান্তর করেন।

স্থানীয়রা জানান, পারিবারিক বিরোধের জের ধরে দু’পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে বৃদ্ধ একরাম আলীকে পিটিয়ে আহত করেন ভাই ও ভাতিজারা। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে প্রথমে বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এম এ জি ওসমানি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে তিনি মারা যান।

নিহত বৃদ্ধ একরাম আলী ও তার ভাই গ্রাম পুলিশ সদস্য সালেহ আহমদের পরিবারের ঝগড়া থামাতে গিয়ে প্রতিবেশি এক নারী আহত হয়েছেন।

নিহত বৃদ্ধ একরাম আলীর পুত্র সুফিয়ান আহমদ জানান, তারা তাদের ধান ট্রলি দিয়ে বাড়িতে আসার সময় ট্রলিচালক রাস্তার মধ্যে রাখা তাদের চাচাত ভাইয়ের সিএনজিটি সরান। এর জের ধরে তাদের ওপর হামলার করেন তাদের চাচা ও চাচাত ভাই-বোন। এক পর্যায়ে তার বাবাকে দা ও হাতুড়ি দিয়ে চাচাতো ভাইয়েরা মারধর করেন।

দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ দীর্ঘদিনের, সেই বিরোধের জের ধরেই হতাহতের ঘটনা ঘটেছে জানিয়ে মুড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফরিদ আহমদ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তসাপেক্ষে অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি দাবি করেন।

বিয়ানীবাজার থানার ওসি (তদন্ত) ছবেদ আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পারিবারিক বিরোধের জের ধরে এ ঘটনাটি ঘটেছে। পুলিশ অভিযুক্তদের ধরতে অভিযান চালাচ্ছে।