কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ইস্যুতে স্থানীয় জনগণের ক্ষয়ক্ষতি, শ্রমবাজার দখল, পরিবেশ ও আইনশৃঙ্খলার অবনতির বিষয়গুলো নিয়ে উখিয়া-টেকনাফের সাবেক সংসদ সদস্য, জাতীয় সংসদের সাবেক হুইপ ও কক্সবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরীর বাসভবনে শনিবার (২১ জুন) সকাল ১১টায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ বৈঠকে শাহজাহান চৌধুরী রোহিঙ্গা সঙ্কটে স্থানীয় ক্ষতির চিত্র তুলে ধরেছেন।

ফ্রান্সভিত্তিক আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা অ্যাক্টড বাংলাদেশ (Acted Bangladesh)-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর মিস জুলি ভারভার্গ এ বৈঠকে অংশ নেন।

বৈঠকে সাবেক এমপি শাহজাহান চৌধুরী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উখিয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সরওয়ার জাহান চৌধুরী। পুরো বৈঠকটি সমন্বয় করেন অ্যাক্টড বাংলাদেশ-এর সরকারি লিয়াজোঁ ম্যানেজার (Government Liaison Manager) শহীদুল্লাহ শহীদ।

বৈঠকে আলোচনায় উঠে আসে-রোহিঙ্গা আগমনের ফলে স্থানীয় যুবকদের চাকরির বাজার সংকুচিত হচ্ছে, বিশেষ করে বিভিন্ন এনজিওতে রোহিঙ্গাদের অগ্রাধিকার দেয়ায় অনেক স্থানীয় শিক্ষক-কর্মচারী চাকরি হারিয়েছেন। তাদের পুনর্বহালের দাবি জানান স্থানীয় নেতারা। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গাদের আশ্রয়ের কারণে স্থানীয় ও আশ্রিতদের মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব ও সামাজিক দূরত্ব তৈরি হয়েছে।

বক্তারা বলেন, ‘রাষ্ট্রহীন এ জনগোষ্ঠীর এক-চতুর্থাংশ বাংলাদেশে থেকে যাওয়ায় স্থানীয় সমাজব্যবস্থায় ভারসাম্যহীনতা দেখা দিয়েছে।’

ক্যাম্পভিত্তিক কিছু চক্র বাইরের অপরাধী গোষ্ঠীর সাথে মিলে মাদকপাচার, নারী ও শিশুপাচার, অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। নেতারা একে সরাসরি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেন। এ অবস্থায় আট বছরেও রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের কোনো কার্যকর অগ্রগতি না হওয়াকে চরম ব্যর্থতা বলে মনে করেন তারা। বক্তারা জানান, রোহিঙ্গারা নিজেরাও সম্মানজনকভাবে মিয়ানমারে ফিরতে চায়, তবে সেখানে এখনো নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি।

সাবেক হুইপ শাহজাহান চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকার মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে ঠিকই, কিন্তু এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব স্থানীয় অর্থনীতি, পরিবেশ ও আইনশৃঙ্খলার ওপর ভয়াবহভাবে পড়ছে। এখন আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর উচিত বাস্তবতা অনুধাবন করে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া।’

সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সরোয়ার জাহান চৌধুরী বলেন, ‘আমরা রোহিঙ্গাদের প্রতি সহানুভূতিশীল, তবে স্থানীয় জনগণের জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হলে তা মানবিকতার গণ্ডি ছাড়িয়ে অন্যায্য চাপে পরিণত হয়।’

অ্যাক্টড বাংলাদেশ-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর মিস জুলি ভারভার্গ বলেন, ‘সংস্থাটি স্থানীয় ও রোহিঙ্গা-উভয় পক্ষের সমস্যা ও চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। স্থানীয়দের পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের বিষয়টি তারা গুরুত্বসহকারে বিবেচনায় নিচ্ছেন।’

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রোহিঙ্গা সঙ্কট এখন আর কেবল মানবিক বিষয় নয়-এটি নিরাপত্তা, অর্থনীতি, রাজনীতি ও সমাজব্যবস্থায় গভীর প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিচ্ছে। তাই এখনই সময় আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর উচিত বাস্তবতা বুঝে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা।