জামালপুরের ইসলামপুরে চরাঞ্চলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হচ্ছে হাজারো মানুষ। বর্ষা মৌসুমে চরাঞ্চলের মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা ইঞ্জিন চালিত ট্রলার বা নৌকা। বন্যা এবং নদী ভাঙনের সাথে লড়াই করে বেঁচে থাকতে হয় এসব এলাকার মানুষরা।

উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে গেছে যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র। এছাড়া দশআনী এবং শিয়ালদহসহ বেশ কয়েকটি আঞ্চলিক ছোট নদী এই উপজেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যমুনা এবং ব্রহ্মপুত্র এই উপজেলাকে তিন ভাগে বিভক্ত করে রেখেছে। ফলে অধিকাংশ চর এলাকা। যমুনার তীরবর্তী ছয়টি ইউনিয়নের অধিকাংশই চরাঞ্চল। এতে নদী এলাকার মানুষদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হতে হয়।

সাপধরী ইউনিয়নের চেঙ্গানিয়া গ্রামের আব্দুল হালিম বলেন, নদী ভাঙন, বন্যা এবং নৌকায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচলই চরের মানুষের আজীবন সংগ্রাম।

বেলগাছ ইউনিয়নের বরুল গ্রামের বাসিন্দা লাল মাহমুদ, মন্নিয়া গ্রামের বাসিন্দা সাহেদ আলী বলেন, নদী ভাঙন, বন্যা এবং নৌকা ডুবি আমাদের জীবন সংগ্রামের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

কুলকান্দি ইউনিয়নের ঝিগাতলা গ্রামের বাসিন্দা মাহিজল ইসলাম বলেন, চরের মানুষ এখন বন্যা, নদী ভাঙন ও নৌকা ডুবিকে ভয় করেন না। কারণ চরের মানুষ এগুলোকে এখন সাধারণ ঘটনা মনে করেন।

ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে বর্ষা মৌসুম। পানি বৃদ্ধির সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে নদী ভাঙনের তীব্রতা। এছাড়া প্রতিদিনই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছোট-বড় ইঞ্জিন চালিত ট্রলার বা নৌকায় চলাচল করতে হয় এসব অঞ্চলের মানুষদের।

যমুনার তীরবর্তী গুঠাইল ঘাট থেকে প্রতিদিন অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই করে ঝুঁকি নিয়ে সাপধরী, বেলগাছ এবং কুলকান্দি ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক গ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে যায় শতশত ট্রলার বা নৌকা। অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাইয়ের কারণে ট্রলার ও নৌকা ডুবির ঘটনা। মৃত্যুর ঝুঁকি প্রতিনিয়ত তাড়া করলেও নদী পারাপার হওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নাই চরাঞ্চচলের মানুষদের।