‎সুনামগঞ্জের তাহিরপুর সীমান্তের দেশের জনপ্রিয় পর্যটন স্পট বারেকটিলায় (বারিক্কার টিলা) প্রকাশ্যে সরকারি গাছ কেটে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে তাহিরপুর থানার মামলা করেছে উপজেলা প্রশাসন।

‎

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) রাতে ইউনিয়ন উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা (ডিহিভাটি, তাহিরপুর) রঞ্জন কুমার দাস মামলাটি দায়ের করেন।

‎

‎মামলার আসামিরা হলেন— বারেক টিলার আনন্দপুর গ্রামের সাবেক চেয়ারম্যান পুলক আজিম, বড়গোপ টিলার মোশারফ হোসেন মোসা, হাফিজ, মানিক, জালাল, রাতুল মারাক, শহীদ, নজরুলসহ ১৬ জন।

‎

‎জানা গেছে, গত বুধবার (১১ মার্চ) দুপুরে উপজেলা উত্তর বড়দল ইউনিয়নের বারেকটিলার ওয়াচ-টাওয়ার সংলগ্ন এলাকা থেকে তিন-চারটি গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে এমন একটি ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশ হলে মুহূর্তেই তা ভাইরাল হয়।

‎

‎পরে বিষয়টি তাহিরপুর উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসলে ১২ মার্চ শক্তিয়ারখলা ভিট অফিসার রতীন্দ্র কিশোর রায় ও ইউনিয়ন উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা (ডিহিভাটি, তাহিরপুর) রঞ্জন কুমার দাস সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এর সত্যতা পান।

‎

‎এর সত্যতা নিশ্চিত করে শক্তিয়ারখলা ভিট অফিসার রতীন্দ্র কিশোর বলেন, ‘বারেকটিলার বাসিন্দা শহীদসহ ১৫-১৬ জনের একটি দল দীর্ঘদিন ধরে টিলার গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে। এর সত্যতা পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সাথে পরামর্শ করে তাহিরপুর ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা ১৬ জনের নামে একটি মামলা দায়ের করেছেন।’

‎উল্লেখ্য, দেশের উত্তর-পূর্ব দিগন্তে পর্যটন শিল্পের অপার সম্ভাবনাময় ও ধলাইরগাঁও বিট অফিসের আওতাভুক্ত উত্তর বড়দল ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী স্থানে ৩৬৫ একর জায়গাজুড়ে বাংলার আইফেল টাওয়ার খ্যাত বারেকটিলার অবস্থান। বিশাল বনভূমিতে নিজস্ব ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতিতে বলিয়ান আদিবাসী ও বাঙালী বসতি, গাছ, পাখির সৌন্দর্য ভরপুর থাকলেও গত এক যুগের ব্যবধানে টিলায় প্রকৃতি, পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে।