মিয়ানমারের রাখাইনে সংঘাতময় পরিস্থিতে বিগত সোয়া এক বছরে সাময়িকভাবে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া ৭১ জন তঞ্চঙ্গ্যা (উপজাতি) স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফিরে গেছেন। তারা সবাই ২০ তঞ্চঙ্গা পরিবারের সদস্য ছিল। এদের মধ্যে নারী, পুরুষ ও শিশুও রয়েছে।

মঙ্গল ও বুধবার (২৩ ও ২৩ জুলাই) এদেরকে ফেরত পাঠানো হয় বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) কর্তৃপক্ষ।

বুধবার গভীর রাতে এক প্রেস রিলিজ দিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিজিবি ৩৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্ণেল এস এম খায়রুল আলম।

প্রেস রিলিজে তিনি জানান, বিজিবির তত্ত্বাবধানে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম সীমান্ত দিয়ে তাদেরকে প্রত্যাবর্তন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।

বিজিবির প্রেস রিলিজে জানানো হয়, ২২ জুলাই (মঙ্গলবার) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত প্রথম দফায় ১০টি পরিবার এবং ২৩ জুলাই (বুধবার) বিকেলে দ্বিতীয় দফায় আরো ১০টি পরিবার মিয়ানমারে ফিরে যায়। দুই দিনে মোট ৭১ জন তঞ্চঙ্গ্যা নাগরিক সীমান্ত পিলার ৩৭-এর ‘আমবাগান’ এলাকা দিয়ে মিয়ানমারে প্রবেশ করেন।

উল্লেখ্য, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনা ও বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির মধ্যকার সংঘাত-সংঘর্ষের ফলে গত ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত বেশকিছু তঞ্চঙ্গ্যা পরিবার বাংলাদেশে পালিয়ে এসে ঘুমধুমের বাইশফাঁড়ী তঞ্চঙ্গ্যা পাড়া ও হেডমেন পাড়ায় আশ্রয় নিয়ে বসবাস করতে থাকে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে নিজ এলাকায় পরিস্থিতি শান্ত হওয়ায় তারা স্বেচ্ছায় দেশে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তারা সবাই তঞ্চঙ্গ্যা উপজাতি পরিবার।

কক্সবাজার বিজিবি-৩৫ ব্যাটালিয়নের তত্ত্বাবধানে স্বেচ্ছায় প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে এবং সম্মানজনক পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যাটালিয়ন কমান্ডার। তিনি জানান, এসব পরিবার নিজ ইচ্ছায় স্বদেশে ফিরে গেছে, তাদের ওপর কোনো চাপ প্রয়োগ করা হয়নি।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী ৭১ জন মিয়ানমারের তঞ্চঙ্গ্যা উপজাতি নাগরিককে ঘুমধুম সীমান্ত দিয়ে বিজিবি স্বেচ্ছায় স্বদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।