নবগঠিত সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিউক) কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হতে যাচ্ছে আগামী মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট)। ওই দিন দুপুরে এ উপলক্ষে নগরের নাইওরপুলের হোটেল ফরচুন গার্ডেনে সিউকের অস্থায়ী কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য ও বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। এছাড়া উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
এছাড়া এই গুরুত্বপূর্ণ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সিলেট জেলার সকল সংসদ সদস্যবৃন্দ, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, সিলেটের সকল দফতরের প্রধান, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন।
রোববার (১২ আগস্ট) দুপুরে সিউকের অস্থায়ী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান সিউকের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিউকের নির্বাহী পরিচালক সাদিউর রহমান জাদিদ, সদস্য (প্রকৌশল) মো: ইলিয়াস আহমদ ও সিলেট গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু জাফর।
সংবাদ সম্মেলনে সিউক চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেন, ‘সিলেট ও এর সন্নিহিত এলাকার সমন্বয়ে একটি আধুনিক ও মনোমুগ্ধকর পর্যটন নগরী প্রতিষ্ঠা, সুপরিকল্পিত উন্নয়ন, ভূ- প্রাকৃতিক পরিবেশ ও পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং পর্যটন অঞ্চলে টেকসই, দৃষ্টিনন্দন ও পর্যটনবান্ধব অবকাঠামো ও স্থাপনা নিশ্চিত করাই সিউকের মূল উদ্দেশ্য।’
তিনি বলেন, ‘সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ২১ সদস্যবিশিষ্ট হবে। চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে চারজন সদস্য, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দফতরের প্রতিনিধি, তিনজন বিশিষ্ট নাগরিক ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে সিউক গঠিত হবে। একজন নির্বাহী পরিচালক সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।’
তিনি আরো বলেন, ‘সিলেট মহানগরীর ৭৯.৫ বর্গ কিলোমিটার ছাড়াও সন্নিহিত এলাকা হিসেবে সিলেট সদর, দক্ষিণ সুরমা, গোলাপগঞ্জ ও বিশ্বনাথ— এই চারটি উপজেলার সমন্বয়ে প্রায় ৯৯৫ বর্গকিলোমিটার এলাকাকে সিউকের অধিক্ষেত্র হিসেবে ঘোষণার প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হচ্ছে। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মতো সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অধিভুক্ত এলাকায় কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। সিডিএ অধিক্ষেত্র হবে ১১৬৫ বর্গ কিলোমিটার এলাকা।’
সিউক চেয়ারম্যান বলেন, ‘সিউকের রাজস্ব খাতে ৬৭ ক্যাটাগরিতে ৭১৪ পদ সৃজন, পদ সৃজনের যৌক্তিকতা, বেতন স্কেল, নিয়োগ যৌগ্যতা নির্ধারণ ও প্রবিধানমালা প্রণয়নপূর্বক গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব আকারে পাঠানো হয়েছে। স্থায়ী ও আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ায় জনবলের মাধ্যমে দাফতরিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘স্থায়ী দফতরের জমির জন্য জেলা প্রশাসক (ডিসি) বরাবরে আবেদন পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।’
সংবাদ সম্মেলনে সিউকের কিছু স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি আরো বলেন, ‘পরে এই পরিকল্পনার বিস্তারিত জানানো হবে।’
সংবাদ সম্মেলনে প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের শতাধিক সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন।








