বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সাবেক এমপি শাহজাহান চৌধুরী বলেছেন, ‘ফ্যাসিবাদী সরকার দীর্ঘ ১৫ বছর দেশে অসংখ্য হত্যা ও গণহত্যা করেছে। এ সরকারের অধীনে তাদের বিচার সম্পন্ন না করলে পরবর্তী সময়ে ফ্যাসিবাদ কায়েম হতে পারে। তাই অনতিবিলম্বে জুলাই গণহত্যার দৃশ্যমান বিচার কাজ সম্পন্ন করুন।’

মঙ্গলবার (১ জুলাই) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচি জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের মাগফিরাত, আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারীদের সুস্থতা কামনায় দোয়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

শাহজাহান চৌধুরী বলেন, ‘৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থান। এ অভ্যুত্থানের পর দেশের প্রকৃত মালিক হয়েছেন জনগণ। এর আগে দীর্ঘদিন জনগণ দেশের মালিক হতে পারেনি। আন্দোলন চলাকালীন সময়ে শহীদ আবু সাঈদের মতো তরুণ যুবক বুক পেতে গুলিকে বরণ করেছিল বলেই শোষিত জনতার হৃদয়াবেগকে জাগরিত করেছিল। একের পর এক দুই সহস্রাধিক ছাত্র-জনতা শাহাদাত বরণ করে। পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন অসংখ্য যুবক। তাদের ত্যাগের বিনিময়ে আজ ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ। আজকের এ দিনে শহীদ ফয়সাল শান্ত, শহীদ ওয়াসিম আকরাম, শহীদ ওমর আবছার ও শহীদ ইশমামসহ শহীদদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি।’

কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার আমির আনোয়ারুল আলম চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা বদরুল হকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে আরো উপস্থিত ছিলেন জেলা নায়েবে আমির অধ্যাপক মুহাম্মদ নুরুল্লাহ, জেলা অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ও চট্টগ্রাম-১৬ আসনের মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা জহিরুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট আবু নাছের, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের জেলা সভাপতি মাওলানা নুরুল হোসাইন, জেলা জামায়াতের সাংগঠনিক সেক্রেটারি ও চট্টগ্রাম-১৩ সংসদীয় আসনের জামায়াতের মনোনীত এমপি প্রার্থী অধ্যাপক মাহমুদুল হাছান চৌধুরী, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা কামাল উদ্দীন, নুরুল হক, ইঞ্জিনিয়ার শহীদুল মোস্তফা, আরিফুর রশীদসহ উপজেলা ও থানার নেতারা।

প্রধান অতিথি আরো বলেন, ‘এ বিপ্লব ছাত্র জনতার বিপ্লব, এ বিপ্লব তৌহিদী জনতার বিপ্লব। দ্বিতীয় স্বাধীনতার মধ্য দিয়ে দেশে গণতন্ত্র ফিরে এসেছে। বিপ্লব পরবর্তী আমিরে জামায়াত ডা: শফিকুর রহমান প্রায় সকল শহীদদের কাছে গিয়ে তাদের পরিবারের খোঁজখবর নিয়েছেন। আহতদের খোঁজখবর নিয়েছেন এবং নিয়মিত নিচ্ছেন। জুলাই অভ্যুত্থানের অসংখ্য আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারী ছাত্র জনতা এখনো হাসপাতালে শয্যাশায়ী ও চিকিৎসাধীন। তাদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।’

সরকারের পক্ষ থেকে তাদের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

তিনি আরো বলেন, ‘জামায়াতের পক্ষ থেকে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতিতে নির্বাচনের জন্য প্রস্তাবনা উপস্থাপন করার পর প্রায় সবকটি দল একমত হলেও সরকার এখনো জনগণের সাথে একমত হতে পারেনি। পিআর পদ্ধতিতে সংসদ নির্বাচন না হলে ফ্যাসিবাদ পুনরায় উত্থান হবে।’ তাই আগামীর সংসদ যেন প্রাণবন্ত হয়, সেজন্য পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন দেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

সভাপতির বক্তব্যে জেলা আমির আনোয়ারুল আলম চৌধুরী বলেন, ‘হাজারো শহীদদের ত্যাগের বিনিময়ে পাওয়া স্বাধীনতা জীবন বাজি রেখে রক্ষা করতে হবে। কোনো অপশক্তিকে দেশকে ধ্বংস করার সুযোগ দেয়া যাবে না। আগামীতে জুলাই বিপ্লবকে ধারণ করে দেশ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা রাখার আহ্বান জানাচ্ছি।’