জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান দানবীর ড. সৈয়দ রাগীব আলী বলেছেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ সা: ছিলেন মানবতার সর্বশ্রেষ্ঠ আদর্শ। তার জীবন থেকে চিকিৎসকসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে মানবিকতা, দায়িত্ববোধ, সততা ও সেবার শিক্ষা নিতে হবে। বিশেষ করে চিকিৎসকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি রোগীদের প্রতি সহমর্মী ও মানবিক হতে হবে।
তিনি বলেন, রাসুলের সা: জীবন ও আদর্শ অনুসরণ করে চিকিৎসকদের সেবার মানসিকতা নিয়ে কাজ করতে হবে। রোগীদের প্রতি মানবিক ও দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবাকে আরো উন্নত ও সহজলভ্য করতে হবে। মানবতার কল্যাণ সাধনের লক্ষেই এই মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। মানবতার কল্যাণে প্রতিষ্ঠানের পথচলা অব্যাহত থাকবে ইনশাআল্লাহ।
তিনি বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের উদ্যোগে পবিত্র সিরাতুন্নবী সা: উপলক্ষে আয়োজিত সিরাত কনফারেন্স ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথা বলেন।
জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা: আবেদ হোসেনের সভাপতিত্বে এবং ফার্মাকোলজি বিভাগের লেকচারার ডা: আবদুর রাজ্জাক আল মাসুমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন বাংলাদেশে অবস্থিত সৌদি দূতাবাসের দা‘ঈ এবং কুদরত উল্লাহ জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব শায়খ সাঈদ বিন নুরুজ্জামান আল মাদানী।
বিশেষ অতিথি ছিলেন লিডিং ইউনিভার্সিটির ভিসি প্রফেসর ড. মো: তাজ উদ্দিন, রাগীব-রাবেয়া ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ও জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের গভর্নিং বডির সদস্য সৈয়দ আব্দুল হাই, মেডিক্যাল কলেজের ভাইস-প্রিন্সিপাল প্রফেসর ডা: এ কে এম দাউদ এবং হাসপাতালের পরিচালক প্রফেসর ডা: মো: তারেক আজাদ।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের সহকারী রেজিস্টার ডা: মো: ফজলুল হক সোহেল।
প্রধান আলোচকের বক্তব্যে বাংলাদেশে অবস্থিত সৌদি দূতাবাসের দা‘ঈ এবং কুদরত উল্লাহ জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব শায়খ সাঈদ বিন নুরুজ্জামান আল মাদানী মহানবী সা:-এর জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে আলোচনা পেশ করেন।
তিনি বলেন, শিক্ষা, চিকিৎসা, রাষ্ট্র ও সমাজব্যবস্থাসহ সব ক্ষেত্রেই রাসুল সা: গোটা মানবজাতির জন্য অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত। তিনি জ্ঞানার্জনকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছেন এবং মানুষের মধ্যে শিক্ষা ও জ্ঞান বিস্তারে উৎসাহিত করেছেন। অসুস্থ মানুষের সেবা, বিপদগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানো এবং মানুষের কল্যাণে কাজ করার মধ্য দিয়ে চিকিৎসা ও মানবসেবার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। রাষ্ট্র পরিচালনায় তিনি ন্যায়বিচার, শৃঙ্খলা, জবাবদিহি ও মানুষের অধিকার নিশ্চিত করেছেন। একইভাবে সমাজব্যবস্থায় তিনি সাম্য, ভ্রাতৃত্ব, পারস্পরিক সহমর্মিতা ও মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্ব দিয়েছেন। মহানবী সা:-এর এই আদর্শ অনুসরণ করলে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে শান্তি, ন্যায় ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে কলেজ ও হাসপাতালের শিক্ষক, চিকিৎসক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। পরে সিরাতুন্নবী সা: উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।








