সম্মানের সাথে নিজভূমে ফেরার দাবি জানিয়েছে রোহিঙ্গা নেতারা বলেছেন, আমরা আশ্রয় চাই না।
শুক্রবার (২০ জুন) বিশ্ব শরণার্থী দিবস উপলক্ষে কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার কুতুপালং রেজিস্টার্ড ক্যাম্প-১-এর সি-ব্লকে অবস্থিত ফুটবল মাঠে এক শান্তিপূর্ণ মিছিল ও সমাবেশে রোহিঙ্গা নেতারা এসব কথা বলেন। দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে শুরু হওয়া এ কর্মসূচিতে প্রায় ২০০ থেকে ২৩০ জন রোহিঙ্গা অংশ নেন।
সমাবেশে বক্তারা বিশ্ব শরণার্থী দিবসের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ‘রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ন্যায্য নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।’
তারা আরো বলেন, ‘আশ্রয় নয়—তাদের স্বপ্ন নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে নিজেদের জন্মভূমি মিয়ানমারে ফিরে যাওয়া।’
সমাবেশস্থলে রোহিঙ্গারা বিভিন্ন মানবিক আবেদন ও অধিকারের দাবিতে প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার বহন করেন।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ইউনুস আরমান, রোহিঙ্গা যুব নেতা মাজেদ আব্দুল্লাহ, কুতুপালং ক্যাম্প চেয়ারম্যান জুবায়ের ও ক্যাম্পের প্রধান ইমাম।
বক্তারা ২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে চালানো সেনা অভিযানের বিভীষিকাময় স্মৃতি তুলে ধরে বলেন, ‘সেই গণহত্যা, ধর্ষণ, ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়া এবং জাতিগত নিধনের পর আজো আমরা ভিটেমাটি ফিরে পাইনি। বিশ্ব বিবেক এখনো নিরব।’
ইউনুস আরমান বলেন, ‘আট বছর ধরে আমরা আশ্রিত, কিন্তু এটি কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত আমাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের বিষয়টি এখনই নিশ্চিত করা।’
বিশ্ব শরণার্থী দিবসে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর এই শান্তিপূর্ণ অবস্থান এবং অধিকারভিত্তিক দাবিগুলো আবারো আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, রোহিঙ্গা সঙ্কট শুধু একটি মানবিক ইস্যু নয়-এটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা, মানবাধিকার এবং আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক সদিচ্ছার একটি বড় পরীক্ষা।








