মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘নতুন বাংলাদেশে কোনো একক ব্যক্তির হাতে ক্ষমতা থাকবে না। পিআর পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’

বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) রাতে মানিকগঞ্জে জুলাই পদযাত্রার অংশ হিসেবে শহীদ রফিক চত্বরে সমাবেশে তিনি একথা বলেন। এ সময় অন্য বক্তারা বলেন, ‘৩ আগস্ট জুলাই ঘোষণাপত্র প্রকাশ করা হবে।’

এনসিপির মানিকগঞ্জ জেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট জাহিদুর রহমান তালুকদারের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম আরো বলেন, ‘আমরা অনেক আগেই জানিয়েছিলাম, গোপালগঞ্জে প্রোগ্রাম হবে কিন্তু সরকার যথাযথ ব্যবস্থা না করার করনেই আওয়ামী সন্ত্রাসীরা আমাদের ওপর হামলা করেছে। আমরা জীবনের কোনো মায়া করি না, আমাদের শহীদ ভাইদের দেখি তখন ভাবি আমরা বেঁচে আছি তাদের অধিকার আদায়ের জন্যে। আমরা জীবনের পরোয়া করি না। আমরা ভোট চাইতে আসিনাই আমরা এক নতুন বৈষম্যহীন বাংলাদেশ বিনির্মানের স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নেমেছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘ইনসাফ ভিত্তিতে রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে, চাঁদাবাজ মুক্ত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে। নতুন বাংলাদেশে কোনো একক ব্যক্তির হাতে ক্ষমতা থাকবে না। পিআর পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘বিগত সময় সাধারণ মানুষ, ছাত্র-আলেমদের ওপর নির্যাতন করা হয়েছে। শুধু ইসলাম পালনের কারণে জুলুম করা হয়েছে। হিন্দু ভাইদের বলবো, আপনারা কোন বিশেষ দলের সম্পদ নয়, আপনারা বাংলাদেশের জনগণ। সমান অধিকার ভোগ করেন। আওয়ামী লীগই হিন্দুদের জমি দখল করেছে।’

এনসিপির সদস্য সচিব আক্তার হোসেন বলেন, ‘আমরা যখনই সংস্কার করতে চাই তখন একটি পক্ষ সংখ্যার ওপর নির্ভর করে ক্ষমতা চায়। গত বছর এই দিনে আমাদের শাহবাগ থানায় আমাদের ময়লা-আর্বজনাভরা একটি রুমে আটকে রাখা হয়। বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে কিন্তু এদেশের বিচার ব্যবস্থা, শাসন ব্যবস্থা এখনো জনগণের উপযোগী হয়ে ওঠেনি। এতোগুলো প্রাণ নেয়ার পরও আওয়ামী লীগের কোন অনুশোচনা নাই। রিফাইন্ড আওয়ামী লীগের কথা যারা বলেন- তারা দেখুন গোপালগঞ্জে সন্ত্রাসীরা এখনো সক্রিয়। গোপালগঞ্জে বিপ্লবীদের ওপর হামলার পর আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এদেশে আর আওয়ামী লীগের কোনো অস্তিত্ত্ব থাকবে না। মুজিববাদের কবর রচনা হয়েছে।’

এসসিপির সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন বলেন, ‘জুলাই সনদ দিতে হবে। কোনো কোনো রাজনৈতিক দল এই ঘোষণাপত্র মানতে বাধ্য তা উল্লেখ থাকবে। জুলাই ফাউন্ডেশন হতে শহীদ ও আহতদের সহযোগিতা করা হচ্ছে না। বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের নাম নিশানা মুছে ফেলা হবে।’

সন্ধ্যা ৭টার দিকে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও রাত ৯টার দিকে তারা সমাবেশস্থলে এসে পৌঁছান। এ সময় শতশত ছাত্র-জনতা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতে থাকেন। ইনকিলাব জিন্দাবাদ, মুজিববাদ মুর্দাবাদ। তুমি কে আমি কে- রাজাকার, রাজাকার। দিল্লী না ঢাকা, ঢাকা-ঢাকা ইত্যাদি শ্লোগানে সমাবেশ স্থল মুখরিত হয়ে উঠে।

সমাবেশে হাসনাত আব্দুল্লাহ, সারজিস আলমসহ এনসিপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ মানিকগঞ্জে পাটুরিয়া ঘাটে পৌঁছার সাথে সাথেই ব্যাপক নিরাপত্তা দিয়ে তাদের সমাবেশস্থলে নিয়ে আসা হয়।

অপরদিকে, মানিকগঞ্জ শহরে সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে জাতীয়তাবাদী যুবদলের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জেলা যুবদল।

গোপালগঞ্জে এনসিপি নেতৃবৃন্দের ওপর হামলার প্রতিবাদ ও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের বিচারের দাবিতে জেলা শহরে বিক্ষোভ মিছিল করে জামায়াতে ইসলামী মানিকগঞ্জ জেলা শাখা।

মূলত আজ বৃহস্পতিবার মানিকগঞ্জ বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের শহরে পরিণত হয়েছিল।