চকরিয়া (কক্সবাজার) সংবাদদাতা
কক্সবাজারের চকরিয়ায় অপরাধ দমন, মাদক নির্মূল, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের ধারাবাহিক বিশেষ অভিযানে গত এক মাসে বিভিন্ন মামলায় মোট ২২৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
চকরিয়া থানা পুলিশের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট মাসে গ্রেফতার ২২৯ জনের মধ্যে ছয়জন পেশাদার ডাকাত, তিনজন হত্যা মামলার আসামি, ২১ জন চোর, ১১ জন মাদককারবারি, ২০ জন পুরাতন মামলার আসামি, বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ৩১ জন এবং ২৩ জন সাজাপ্রাপ্ত আসামি রয়েছেন।
এ ছাড়া বিভিন্ন মামলায় আদালতের ওয়ারেন্টভুক্ত ১১৪ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে জিআর মামলার ৫০ জন এবং সিআর মামলার ৬৪ জন আসামি রয়েছেন।
মাদকবিরোধী অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার চকরিয়া থানা পুলিশের মাদকবিরোধী পৃথক অভিযানে গত আগস্ট মাসে ১০ হাজার ৬৬৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ২৮ লিটার দেশীয় তৈরি চোলাইমদ এবং ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, চকরিয়ার বিভিন্ন এলাকায় মাদক পাচার, বিক্রি ও সেবনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদক কারবারের সাথে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি মাদকের বিস্তার রোধে গোয়েন্দা তৎপরতাও জোরদার করা হয়েছে।
উদ্ধার হয়েছে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র অপরদিকে, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে পরিচালিত অভিযানে একটি এলজি, একটি একনলা বন্দুক ও দু‘টি কার্তুজ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, চুরি-ডাকাতি, সন্ত্রাস, মাদক, অবৈধ অস্ত্রসহ বিভিন্ন অপরাধের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অপরাধের ধরন ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। মাদক, সন্ত্রাস, চুরি-ডাকাতি ও অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। অপরাধী যত প্রভাবশালীই হোক, কোনো ধরনের ছাড় দেয়া হবে না।’
তিনি আরো বলেন, ‘নিরাপদ চকরিয়া গড়ে তুলতে পুলিশের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সহযোগিতাও প্রয়োজন। কোথাও কোনো অপরাধ বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য থাকলে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে জানানোর জন্য সবাইকে আহ্বান জানাচ্ছি।’
পুলিশের ধারাবাহিক অভিযানের ফলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরো উন্নত করতে মাদক ও অপরাধের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সচেতনতা ও সহযোগিতার ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছে পুলিশ।








