২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া নারায়ণগঞ্জের সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমান নিউইয়র্কে একটি দোয়া মাহফিলে রোববার (৯ আগস্ট) বক্তব্য রেখেছেন। দীর্ঘদিন পর প্রকাশ্যে এসে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও নিজের পারিবারিক বাড়ি ‘বায়তুল আমান’ নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন তিনি।

রোববার নিউইয়র্কে একটি দোয়া মাহফিলে দেওয়া তার বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। ভিডিওতে শামীম ওসমানকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানাতে দেখা যায়।

নিজের রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি ব্যর্থ, তবে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। কে বড় নেতা, কে ছোট নেতা তা ভাববার বিষয় নয়।’

বিএনপি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিএনপির খবর আমি রাখতাম না। ওরা আমাদের মতোই একটা দল, তবে একটু পয়সা কামায় তল দিয়ে হাত দেয়। এই আরকি।’

শামীম ওসমান বলেন, তিনি বিএনপির চেয়ে বেশি নজর রাখতেন ফান্ডামেন্টালিস্ট ও এক্সট্রিমিস্ট গোষ্ঠীর কর্মকাণ্ডের দিকে। ‘আমার টার্গেট ছিল এক্সট্রিমিস্ট গ্রুপ, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা মানে না।’

জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আজমকে নিষিদ্ধ ঘোষণার বিষয়টি তুলে ধরে শামীম ওসমান বলেন, ‘আমার টার্গেট ছিল এক্সট্রিমিস্ট গ্রুপ যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা মানে না। এ কারণেই আমি গোলাম আজমকে নারায়ণগঞ্জে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিলাম। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বোমা আমার অফিসে মারা হয়েছিল।’

শামীম ওসমান বলেন, ‘দুই তারিখ রাতে আমি আমার নেত্রী আমার মা শেখ হাসিনার কাছে গিয়েছিলাম। আমি বললাম, আপা সেনাবাহিনী মাঠ থেকে উঠিয়ে নিন, কারফিউ প্রত্যাহার করেন। আমি জনসভা ডেকেছি নারায়ণগঞ্জে। আমি দেড় থেকে দুই লাখ লোক নিয়ে আসছি। আশেপাশের এলাকায় খবর দেন। এই ক্যাপাসিটি আমাদের ছিল। আমাদের শক্তির উৎস জনগণ। কেউ কেউ বলেছে বা বুঝিয়েছে সিভিল ওয়ার হবে। জাতির জনকের মেয়ে তো, তিনি চাননি কোনো রক্তপাত হোক।’

নিউইয়র্কের ওই বক্তব্যে নিজের পরিবারের বাড়ি বায়তুল আমান নিয়েও অভিযোগ করেন শামীম ওসমান। তিনি বলেন, ‘ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের সাথে আমার দাদার বাড়ি বায়তুল আমান বিএনপির লোকেরা ভেঙেছে। এর আগে তারা জামায়াতের সাথে বৈঠক করেছে। পরে সেখানে তারা পতাকাও টানিয়েছে।’