সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার সাবেক এক ইউপি চেয়ারম্যানকে জুতাপেটার দায়ে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যানকে কারাদণ্ড ও জরিমানা করছেন আদালত।

সোমবার (২৮ জুলাই) সিলেট চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে-৩ এর বিচারক মো: রুবেল মিয়া বাদী-বিবাদী পক্ষের মধ্যে দীর্ঘ শুনানি শেষে এই রায় প্রদান করেন। রায়ে অভিযুক্ত চেয়ারম্যানকে দুই মাসের কারাদণ্ড ও ২ শ’ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

তবে, আদালত থেকে জামিন দেয়ায় কারাগারে যেতে হয়নি সাবেক এই উপজেলা চেয়ারম্যানকে।

এই রায়ে সন্তুষ্ট মামলার বাদী বিশ্বনাথের অলংকারী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিশ্বনাথ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো: লিলু মিয়া।

অপরদিকে ২ মাসের সাজা ও ২ শ’ টাকা জরিমানায় দণ্ডিত বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সুহেল আহমদ চৌধুরী জানিয়েছেন, এই রায়ের বিরুদ্ধে তিনি আপিল করবেন।

জানা গেছে, ২০২২ সালে বিশ্বনাথ উপজেলা বিএনপির বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ও অলংকারী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক দু’বারের চেয়ারম্যান মো: লিলু মিয়া সিলেটের ৩ নম্বর আমলগ্রহণকারী আদালতে বিশ্বনাথ উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ও বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সুহেল আহমদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। জি আর মামলা নম্বর ৫৫/২০২২।

মামলার বাদী আদালতে দায়েরকৃত এজাহারে অভিযোগ করেন, বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সুহেল আহমদ চৌধুরী তার এক সহযোগী জাহাঙ্গীর আলমকে সাথে নিয়ে তাকে পায়ের স্যান্ডেল দিয়ে জুতাপেটা করে আহত করেন এবং তার এক লাখ টাকা ছিনিয়ে নেন। পরবর্তীতে বাদী সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালতসহ আরো তিনটি মামলা করেন। এর মধ্যে দু’টি মামলা খারিজ হয় ও অপরটি থেকে অভিযুক্তরা অব্যাহতি পান।

এ মামলায় সোমবার সিলেট চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (৩ নম্বর) আদালতের বিজ্ঞ বিচারক মো: রুবেল মিয়া বাদী-বিবাদী পক্ষের মধ্যে দীর্ঘ শুনানি শেষে ছিনতাইকৃত অর্থসহ অন্য অভিযোগ থেকে অভিযুক্তদের অব্যাহতি দিলেও কিল-ঘুষিসহ ফুলা জখমের সন্দেহতীতভাবে প্রমাণের নমুনা পাওয়ায় মামলার প্রধান অভিযুক্ত বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সুহেল আহমদ চৌধুরী ও অপর অভিযুক্ত বিশ্বনাথ উপজেলা যুবদল নেতা জাহাঙ্গীর আলমকে দু’মাসের কারাদণ্ড ও ২শ’ টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরো তিনদিনের কারাদণ্ড দেন।