চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জাহাজভাঙা ইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন আরো এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। ইদ্রিস আলী (৫০) নামের ওই শ্রমিক বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ নিয়ে দুর্ঘটনায় নিহত শ্রমিকের সংখ্যা বেড়ে ১০ জনে দাঁড়িয়েছে।

নিহত ইদ্রিস আলীর বাড়ি জামালপুরে। দুর্ঘটনার পর অসুস্থ অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।

সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনার পর ইদ্রিস আলীকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার তার মৃত্যু হয়।

গত ১৪ আগস্ট সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী এলাকার ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডে পুরোনো জাহাজের ট্যাঙ্ক কাটার সময় শ্রমিকেরা বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হন। ট্যাঙ্কের ভেতরে জমে থাকা হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে ঘটনাস্থলেই তিন শ্রমিকের মৃত্যু হয়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরো ছয়জন মারা যান। সবশেষ ইদ্রিস আলীর মৃত্যুতে নিহতের সংখ্যা ১০ জনে দাঁড়াল।

দুর্ঘটনায় আহত আরো ছয় শ্রমিককে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে ইদ্রিস আলীও ছিলেন। চিকিৎসকদের ভাষ্য, বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত শ্রমিকদের ফুসফুস ও শ্বাসনালি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

এ ঘটনায় সীতাকুণ্ড মডেল থানার পুলিশ বাদী হয়ে একটি অপমৃত্যুর মামলা করেছে। তবে কর্তব্যে অবহেলা ও যথাযথ নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত না করার অভিযোগে ইয়ার্ড কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কোনো মামলা হয়নি। এর আগে নিহত নয় শ্রমিকের মধ্যে আটজনের লাশের ময়নাতদন্ত করা হয়নি।

দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর (ডিআইএফই) এবং একাধিক তদন্ত কমিটি কাজ করছে।

এদিকে দুর্ঘটনার পর ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডের কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত স্থগিত করেছে বাংলাদেশ শিপ রিসাইক্লিং বোর্ড।